দেশের চলমান নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আবারও সতর্ক করলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেছেন, সম্প্রতি ভোটারদের ভোটবিমুখতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এর কারণগুলো বিশ্নেষণ করে প্রতিকারের প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন। বুধবার ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২৯টি পৌরসভার নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনে সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচনে সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন। নির্বাচনকালে আপনাদের হাতে যে অপরিমেয় ক্ষমতা আছে, তা প্রয়োগ করে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কেন নিশ্চিত করা যাবে না, তা আমার বোধগম্য নয়। পাশাপাশি এ কথাও বলে দিতে চাই, নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে কারও কোনো শিথিলতা বরদাশত করা হবে না। এ বিষয়ে আমরা 'শূন্যসহিষ্ণু নীতি' বা জিরো টলারেন্সে বিশ্বাসী।

মাহবুব তালুকদার বলেন, যারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের কাছ থেকে তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণ কখনও আশা করেন না। সব প্রার্থীর প্রতি বিচারকের মতো নির্মোহ ভূমিকায় থাকতে হবে।

মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নিশ্চয়তা, নিরপেক্ষতা, নিরাপত্তা, নিয়ম-নীতি ও নিয়ন্ত্রণ কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২৯টি পৌরসভায় ভোট গ্রহণ করা হবে। এসব পৌরসভার নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান।

সভায় শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা এবং সংশ্নিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।