সরকারি নির্দেশনার পরও আবাসিক হল ছাড়েননি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের তালা ভেঙে ছাত্রীরা আবারও ওই হলে অবস্থান নিয়েছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিলেও তারা আবাসিক হল ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদেশ অমান্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।

সকাল ১১টা পর্যন্ত হল না ছাড়ায় প্রক্টরিয়াল টিম ও হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের রুমে গিয়ে হল ছাড়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ছাত্ররা হল ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দেন। তারা বলেন, এই মুহূর্তে তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তারা বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। গেরুয়া এলাকায় তারা এখন অনিরাপদ। বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কোথাও থাকার জায়গাও দিতে পারছে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার অনুরোধ করেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে রাজি হয়নি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিভিন্ন হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে জমায়েত হতে থাকেন। পরে দুপুর ১২টায় প্রশাসনের হল ছাড়ার নির্দেশনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের সামনে আসেন। পরে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা তালা ভেঙে হলে অবস্থান নেন।

এর আগে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে সোমবার ১২টার মধ্যে হল খুলে না দিলে তালা ভেঙে হলে অবস্থান করবেন বলে জানান ছাত্রীরা। পরে সোমবার দুপুর আড়াইটায় ৫ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শারমীন আক্তার সাথী। 

তাদের দাবিগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হল ছাড়ার প্রজ্ঞাপন ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে, হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই হল থেকে বের করার চেষ্টা করা যাবে না, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, হামলায় যুক্ত থাকা ক্যাম্পাসের কতিপয় ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী-কর্মকর্তা জড়িত থাকার বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অজ্ঞাতনামা নয়, চিহ্নিত ব্যক্তিদের নামে মামলা করতে হবে। 

দাবি মানা না হলে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি তারা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন বলে জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল ৫টার দিকে প্রভোস্ট অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে অবস্থান নেওয়া ছাত্রীদের সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হল ছাড়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে হল ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দেন ছাত্রীরা। 

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট মুজিবুর রহমান বলেন, 'শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আজ (সোমবার) জরুরি মিটিং ডাকে। এতে শিক্ষার্থীদের আজকেই হল ছাড়তে বলা হয়। তাই আমি আমার হলের ছাত্রীদের এটি বলতে এসেছি। কিন্তু তারা হল ছাড়তে রাজি হয়নি। যা রাষ্ট্রের আইন অমান্যের শামিল। এমন পরিস্থতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।'

প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, 'আমরা হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার অনুরোধ করেছি। আমরা মনে করি আমাদের শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট পরিণত। তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে।'

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া বাজারে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে জাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর শনিবার হল খুলে দেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

পরে বিভিন্ন হলের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর গেরুয়া গ্রামবাসীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।