ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তাদের স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের তথ্যও তলব করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলে তাদের লেনদেনসহ যাবতীয় তথ্য পাঠাতে হবে।

এনবিআরের চিঠিতে এস কে সুর চৌধুরীর স্ত্রী সুপর্ণ সুর চৌধুরী, শাহ আলমের দুই স্ত্রী শাহীন আক্তার শেলী ও নাসরিন বেগম, এস কে সুরের বাবা মৃত হরিপদ সুর চৌধুরী, মা নিরুপমা সুর চৌধুরী এবং শাহ আলমের বাবা আবদুর রহমান ও মা আম্বিয়া খাতুনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, স্ত্রী, সন্তান ছাড়াও পরিবারের অন্য সদস্যদের একক বা যৌথ নামে অথবা আংশিক মালিকানাধীন অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে হিসাব থাকলে তা জানাতে হবে। এসব ব্যক্তির স্বার্থ-সংশ্নিষ্ট নামে মেয়াদি, সঞ্চয়ী, চলতি হিসাব, ঋণ হিসাব থাকলে সে তথ্য দিতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব, ক্রেডিট কার্ড, লকার বা ভল্ট, সঞ্চয়পত্র বা অন্য কোনো সেভিংস ইন্সট্রুমেন্ট থাকলে তা জানাতে হবে। এ ছাড়া আগে অ্যাকাউন্ট ছিল, বর্তমানে বন্ধ- এ রকম হিসাবের তথ্যও দিতে বলা হয়েছে।

প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) অনিয়মের সহযোগী হিসেবে আটক ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক এমডি রাশেদুল হক ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জল কুমার নন্দি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন। রাশেদুল হক জবানবন্দিতে বলেন, পি কে হালদারের ক্ষমতার অন্যতম উৎস ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। তার মাধ্যমেই পি কে হালদার বিভিন্ন অনিয়ম চাপা দিতেন। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক ও বর্তমানে নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলমকে প্রতি মাসে দেওয়া হতো দুই লাখ টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগের সহকারী পরিচালক থেকে যুগ্ম পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা বছরে দু'বার পরিদর্শনে আসতেন। অনিয়ম না ধরার জন্য প্রতিবার তাদের পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা দেওয়া হতো।

আদালতে জবানবন্দির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর শাহ আলমকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিদর্শন বিভাগের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার নানা জালিয়াতির মাধ্যমে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করছে দুদক। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপলস লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে এসব অর্থ বের করে তিনি এখন পলাতক।