আসছে ঈদুল ফিতরের পর ২৪ মে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর আগে ১৭ মে আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সরকারের এসব সিদ্ধান্তের কথা এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান। তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের হলে ওঠার দাবিতে অনড়। এ দাবিতে গতকালও সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রোববার ফটকের তালা ভেঙে হলে উঠেছেন। গতকাল সকাল ১০টার মধ্যে তাদের হল ছাড়তে বলা হলেও তারা অনড়। এরই মধ্যে গতকাল বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা তালা ভেঙে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে উঠে অবস্থান নিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও গতকাল তালা ভেঙে হলে ওঠার চেষ্টা করেছেন। ক্ষুব্ধ কিছু শিক্ষার্থী হলে উঠলেও পরে ছাত্রনেতাদের অনুরোধে সরে আসেন। তারা ১ মার্চের মধ্যেই হল খুলে দেওয়ার দাবি তুলেছেন।

হলে ওঠার দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া কয়েকটি ছাত্র সংগঠনও আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের ঘোষণা মেনে নিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের এক নেতা।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী পাওয়ার কথা ঘোষণা করে সরকার। এর পর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। এর প্রায় ১৫ মাস পর শুধু বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলো। ১৩ মে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার কথা। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ঈদের ছুটি শেষে ১৭ মে হলগুলো খুলবে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ২৪ মে থেকেই শুরু হবে ক্লাসরুমে পাঠদান। হল খোলার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সব প্রস্তুতি নেবে কর্তৃপক্ষ। হলগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও শেষ করা হবে।

বর্তমানে দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। এ ছাড়া অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৭টি। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মোট ২২০টি আবাসিক হল আছে। এর মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থী প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার। তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, '২৪ মের আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কোনো পরীক্ষা হবে না। তবে অনলাইনে ক্লাস চলবে। এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখে বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ও পরীক্ষার তারিখ পেছানো হবে। করোনার কারণে বয়স অতিক্রম হয়ে যাওয়া কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানান ডা. দীপু মনি।

৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী ১৯ মার্চ হওয়ার কথা। এ ছাড়া ৪৩তম বিসিএসের আবেদন কার্যক্রম চলছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ বিসিএসের আবেদন গ্রহণ চলবে। তবে মন্ত্রী দুপুরে বিসিএস পরীক্ষা পেছানোর কথা বললেও রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, পরীক্ষাটি ঘোষিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এমএ খায়ের এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যারা হলে আছে, তাদের অবিলম্বে হল ত্যাগ করতে হবে। কেউ যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করে, তবে এর দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্রহণ করবে না।

স্কুল-কলেজ খোলার বিষয়ে এক প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, '২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তার আগে জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'

দীপু মনি বলেন, করোনা সংক্রমণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের যে সাফল্য রয়েছে, তা আমরা নষ্ট করতে পারি না। টিকা না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হলে ফিরিয়ে আনাটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

মন্ত্রী জানান, দেশে এখন মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে তাদের অন্তত এক ডোজ টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায় কিনা, সে জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এ নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

সচিব জানান, অন্যান্য দেশে ভার্চুয়ালি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। সেটি বিবেচনায় নিয়ে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায় কিনা, সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্নিষ্ট সবাইকে পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

দিনভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তাপ: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, গতকাল দিনভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। জোর করে হলে ওঠার ঘটনা ঘটেছে। হল খুলে দেওয়ার দাবিতে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তারা প্রশাসনকে স্মারকলিপিও পেশ করেছেন তাদের দাবি জানিয়ে। আজ মঙ্গলবার সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা।

এর আগে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ হলে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ঢুকে পড়েন। তাদের কয়েকজন বলেন, অফিস-আদালত সবকিছু চলছে। তাহলে শিক্ষার্থীরা কেন অপেক্ষা করবেন? স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা নিয়েই তারা হলে এসেছেন। তবে বিকেলে হল থেকে নেমে যান শিক্ষার্থীরা।

একই সময় হলে উঠতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অমর একুশে হলের সামনে ভিড় জমান। তারা হলের প্রবেশপথ পেরিয়ে স্লোগান দেন। তবে তারা হলে অবস্থান নেননি।

এ ছাড়া দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র জুনাইদ হুসেইন খান বলেন, 'সেশনজট যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সে জন্য মার্চ থেকেই হল খুলে দিতে হবে। আমরা মার্চ থেকেই হলে উঠতে চাই। আমরা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে মার্চে হল খোলার বিষয়ে লিখিত নোটিশ দিতে হবে।'

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্য কার্যালয়ে যান আন্দোলনকারীরা। সেখানে তাদের একটি প্রতিনিধি দল হল খোলার দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেয় উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে। সেখান থেকে ফিরে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্য তাদের দাবির বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে কথা বলবেন। সেখানে যদি হল খোলার সিদ্ধান্ত না হয়, তাহলে তারা পরবর্তী কর্মসূচিতে যাবেন।

উপাচার্য আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের চাপ অনেক। তারা ধৈর্য ধরেছে। তাদের কথা চিন্তা করে যেখানে যে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, একাডেমিক কাউন্সিল তা নেবে।

তালা ভেঙে হলে ছাত্রীরা: জাবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হল ছাড়েননি আগেই উঠে পড়া শিক্ষার্থীরা। নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের তালা ভেঙে হলে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিলেও তারা আবাসিক হল ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন।

হলে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সকাল ১১টা পর্যন্ত ছাত্ররা হল না ছাড়ায় প্রক্টরিয়াল টিম ও হল প্রশাসন নির্দেশনাটি শিক্ষার্থীদের আবার মনে করিয়ে দিতে হলে যায়। শিক্ষার্থীদের কক্ষে গিয়ে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ছাত্ররা হল ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দেন। তারা বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আমরা বাসা ছেড়ে দিয়েছি। গেরুয়া এলাকায় আমরা এখন অনিরাপদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার অনুরোধ করেছে; কিন্তু শিক্ষার্থীরা রাজি হয়নি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে।

বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিভিন্ন হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা পরিবহন চত্বরে জমায়েত হতে থাকেন। পরে দুপুর ১২টায় প্রশাসনের হল ছাড়ার নির্দেশনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে আসে। পরে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা তালা ভেঙে হলে অবস্থান নেন।

এর আগে রোববার সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রীরা জানিয়েছিলেন, সোমবার ১২টার মধ্যে হল খুলে না দিলে তালা ভেঙে হলে অবস্থান করবেন।

হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সোমবার জরুরি সভা ডাকে। এতে শিক্ষার্থীদের সোমবারই হল ছাড়তে বলা হয়। কিন্তু তারা মানেনি। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

বেলা আড়াইটায় পাঁচ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি- বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হল ছাড়ার প্রজ্ঞাপন ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে; হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই হল থেকে বের করার চেষ্টা করা যাবে না; আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করতে হবে; হামলায় ক্যাম্পাসের কতিপয় ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী-কর্মকর্তা জড়িতের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অজ্ঞাত মামলা তুলে নিয়ে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নামে মামলা করতে হবে। এ দাবিগুলো মানা না হলে আগামীকাল বুধবার কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ অব্যাহত: ইবি প্রতিনিধি জানান, দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আবাসিক হলের সামনে অবস্থান নেন তারা। হল খোলার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত জানার পর তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শেখ রাসেল হলের ফটকে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ করেন। এ সময় কিছু শিক্ষার্থী হলের তালা ভাঙার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত হলে ওঠেননি কেউ।

এরই মধ্যে ইবির বিভিন্ন বিভাগে চলমান পরীক্ষা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম। তিনি বলেন, এমন অবস্থায় পরীক্ষা নেওয়া ঠিক হবে না। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারি না।

কর্মসূচি স্থগিত: রাবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি হল ও ক্যাম্পাস খোলার বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার পর রাবি শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নেতা মাহমুদ সাকী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে একটা ঘোষণা এসেছে। আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। এতদিন কখন খুলবে সেটাই জানতাম না; এখন তো ঘোষণা এসেছে। এখন অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছি না আমরা।