বাংলাদেশ ওয়াটার মাল্টি-স্টেকহোল্ডারস পার্টনারশিপের (বিডব্লিউ-এমএসপি) সাত সদস্য মিলে তরুণদের জন্য ‘ওয়াটার ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ কম্পিটিশন-২০২১’ (ডব্লিউআইসিসি-২০২১) শীর্ষক এক ভিন্নধর্মী প্রতিযোগিতা শুরু করেছে।

মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই ‘ডব্লিউআইসিসি-২০২১’ প্রতিযোগীতাটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে- ইউনিলিভার পিওরইট, এ২আই (এস্পায়ার টু ইনোভেট), ঢাকা ওয়াসা, পরিবেশ বিভাগ (ডিওই), ২০৩০ ওয়াটার রিসোর্স গ্রুপ (২০৩০ ডব্লিউআরজি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)।

মাসব্যাপী এই প্রতিযোগীতাটির উদ্দেশ্য- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) ভিত্তিক এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা, যেটি পানি সম্পদের সুরক্ষায় মানুষের অভ্যাসগত পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে। পানির ব্যবহার কমিয়ে আনার পাশাপাশি শিল্পখাতে পানির পুর্নব্যবহার ও শোধনের ক্ষেত্রে জবাবদিহীতা বাড়াতে উদ্যোগটি দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্পখাত, কৃষি ও গৃহস্থালীর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে সুপেয় পানির অন্যতম প্রধান উৎস ‘ভূগর্ভস্থ পানি’ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ঢাকায় ৭৯ শতাংশ সরবারহকৃত পানি আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ২১ শতাংশ পানি পাওয়া যায় ভূপৃষ্ঠের জলাধারগুলো থেকে। ধারণা করা হয় গৃহস্থলী ও শিল্পখাতে ব্যবহৃত ৮০ শতাংশের বেশি অবিশুদ্ধ ও বর্জ্যপানি পুনরায় শোধন বা ব্যবহৃত না হয়েই ইকোসিস্টেমে ফিরে আসে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ‘২০৩০ ওয়াটার রিসোর্স গ্রুপ (২০৩০ ডব্লিউআরজি)’ এর গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যেই শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহে প্রায় ২১ শতাংশ ঘাটতি দেখা দেবে।

এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে বস্ত্র ও চামড়াখাতে প্রবৃদ্ধির কারণে পানির চাহিদা ২৫০ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপরন্তু, ভূগর্ভস্থ পানিরস্তর হ্রাস ও নদীর পানির শুদ্ধতার মানও কমে আশঙ্কাজনক অবস্থা পৌঁছেছে।

তাই প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ডব্লিউআইসিসি-২০২১’ প্রতিযোগিতার থিম রাখা হয়েছে, "#WaterSecurity #Innovation #Challenge". হ্যাকথন ঘরনার এই চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগীতার লক্ষ্য পানির ব্যবহার নজরদারীর জন্য ‘হাউজহোল্ড ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট’ ও ‘ইন্ডাস্ট্রি ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট’ ব্যবহার করে যথাযথ টুলস ও প্ল্যাটফর্ম খুঁজে বের করা, যেটি নাগরিকদের এবং শিল্পখাতকে পানি সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কবীর বিন আনোয়ার। এছাড়া এ২আই, ইউনিলিভার পিওরইট, পরিবেশ বিভাগ (ডিওই), ঢাকা ওয়াসা, বিসিএস, বেসিস ও ২০৩০ ডব্লিউআরজি এর প্রধান কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগীতায় প্রজেক্ট জমাদান শুরু হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি, যা আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এছাড়া পানি সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের পানির উৎসগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য ওয়েবিনারও অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিযোগীতায় জমা পড়া প্রজেক্টের মূল্যায়ন ও স্ক্রিনিং চলবে ১৬ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত। এরপর বাছাইকৃত ও উপযুক্ত সমাধানগুলোকে পরামর্শ দেয়ার জন্য একটি বুটক্যাম্পেরও আয়োজন করা হবে। বিচারক প্যানেল বাছাইকৃত সমাধানগুলো নির্বাচন করবে। সবশেষে টেকনিক্যাল ইভাল্যুয়েশন প্যানেল (টিইপি) স্ক্রিন ও চূড়ান্ত নির্বাচনের মাধ্যমে সেরা উদ্ভাবক দল বাছাই করা হবে। আগামী ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবসে প্রতিযোগীতার গ্র্যান্ড ফিনালে আসরটি অনুষ্ঠিত হবে। এদিন প্রতিযোগীতায় চূড়ান্ত বিজয়ী উদ্ভাবক দলের নাম ঘোষণা করবেন বিচারকরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি