কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরার মহাপরিচালক (এডিটিং কাউন্সিল) মোস্তফা সোউয়াগসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার আবেদন ফেরত দিয়েছেন আদালত।

ওই আবেদনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় মঙ্গলবার বিকেলে তা ফেরতের আদেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম।

এরআগে সকালে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে আইনগত বিষয়ের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আদালত জানতে চান, বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে এ দেশে মামলা চলতে পারে কিনা? জবাবে মামলার আইনজীবী আব্দুল খালেক বলেন, আমরা দণ্ডবিধির ৩ ও ৪ ধারা ব্যাখ্যা করে বলেছি, এই মামলা বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে চলতে পারে।

দণ্ডবিধির ৩ ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইন বলে বিচার যোগ্য যে কোনো অপরাধের বিচার দেশের বাইরে হলেও তা দেশীয় আইনে করা যাবে। আর ৪ ধারায় বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের নাগরিককের এই আইনের আওতায় বিচার করা যাবে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলা আমলে গ্রহণের ক্ষমতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

বিকেলে আদালত বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নেওয়ায় মামলাটি ফেরত দেওয়া হলো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে নিয়ে 'মিথ্যা ও বানোয়াট' তথ্য প্রচারের অভিযোগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি মশিউর মালেক এই মামলার আবেদন করেন। আদালত পরদিন আদেশের জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

মামলার অন্যা আসামিরা হলেন- শায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি, ইন্ডিপেডেন্ট ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের সম্পাদক তাসনিম খলিল ও সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান।

মামলার আবেদন ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে মামলার বাদী আইনজীবী মশিউর মালেক জানান, মামলাটি আদালত খারিজ করেননি, ফিরিয়ে দিয়েছেন। সরকারের বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার আদেশ আনা গেলে মামলাটি নেওয়া হবে।