জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সবকটি আবাসিক হলে তালা দিয়ে দিয়েছে হল প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে হল ছেড়ে আতঙ্ক নিয়েই আবারও গেরুয়া গ্রামে ফিরছেন অনেক শিক্ষার্থী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর ও আমাবাগ এলাকাতেও যাচ্ছেন অনেকে। পাশাপাশি স্থিমিত হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হলের সবকটিই ছেড়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা। এরইমধ্যে সবগুলোতে নতুল তালা লাগিয়েছে হল প্রশাসন। এছাড়া চারটি হলে সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টরা।

প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা সবাই সবকটি আবাসিক হল ছেড়েছে। হল প্রশাসন হলগুলোতে তালা দিয়েছে। কোথাও কোনো অসুবিধা হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের প্রক্রিয়ায় হলে অ্যান্ট্রি করে জরুরি জিনিসপত্র নিতে পারবে শিক্ষার্থী।

হল খোলার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও স্থিমিত হয়ে পড়েছে। বুধবার তারা কোনো কর্মসূচির ডাক দেননি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র সিরাজুল হকসহ নেতৃত্ব দেওয়া তিনজনকে ফোন দেওয়া হলে তারা কেউই রিসিভ করেননি। তবে সকালে সিরাজুল বলেন, পারিবারিক কাজে আমি ব্যস্ত থাকায় অন্যদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। তাই আন্দোলনের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।

এর আগের গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া বাজারে ক্রিকেট খেলা কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর শনিবার হল খুলে দেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে বিভিন্ন হলের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন শিক্ষার্থীরা। টানা তিনদিন ধরে আন্দোলনের পরেও সরকারি নির্দেশনায় হল ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।

গেরুয়া এলাকায় কয়েকজন মিলে বাসা ভাড়া করে থাকা সানিমুল হাসান বলেন, সেদিনের সংঘর্ষের পর গেরুয়ার যে বাসায় থাকতাম, সেটি ছেড়ে হলে এসে উঠেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার হলে এসে হল ছাড়ার নির্দেশ দিলে নিরূপায় হয়ে আবার আতঙ্ক নিয়ে গেরুয়ার বাসায় ফিরেছি।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আসম ফিরোজ উল হাসান বলেন, যারা হল ছেড়ে গেরুয়া এলাকায় ফিরেছে, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা দেখছি। গেরুয়া এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আশা করছি, কোনো সমস্যা হবে না। এরইমধ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর গেরুয়া গ্রামবাসীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয়ের ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যে কারণে অনেক মানুষ এলাকা ছেড়েছে।

মন্তব্য করুন