চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন বিভাগের চলমান পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তারা ক্যাম্পাসে সমাবেশ করবেন বলেও জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান সমকালকে বলেন, পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখনও আমরা নোটিশ দিয়ে বলিনি। রাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাই আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) নোটিশ দিয়ে বিভাগগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হবে। 

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্ষদের সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত সব বিভাগের মানতে হবে। 

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সোমবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৪ মে। তার আগে ১৭ মে আবাসিক হলগুলো খুলবে। হলে ওঠার আগে আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নিতে হবে। এর আগে কোনো পরীক্ষা হবে না। এ বক্তব্যের দু'দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরীক্ষা স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী দেওয়ান তাহমিদ সমকালকে বলেন, 'মহামারির কারণে দীর্ঘ সেশনজটে পড়ে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় চলমান পরীক্ষা স্থগিত হলে সে হতাশা আরও বাড়বে। পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি অমানবিক। তাই পরীক্ষা চলমান রেখে বিশ্ববিদ্যালয় যেন তার স্বায়ত্তশাসনের পরিচয় দেয় আমরা সেই দাবি জানাই।'

এদিকে পরীক্ষা স্থগিত না করার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তারা তিন দফা দাবিতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কাছে স্মারকলিপিও দেবেন। দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বী সমকালকে বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় আমরা শহীদ মিনার চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে স্মারকলিপি প্রদান করব।

তিনি আরও বলেন, চলমাস পরীক্ষাগুলো কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। পরীক্ষাগুলো নিয়ে নিতে হবে।