অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল খুলে দেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানান ফ্রন্টের নেতারা। ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এর আয়োজন করে। 

এদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা গ্রহণে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী। ফ্রন্টের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব কান্তি রায় এবং সদস্য সোহাইল আহমেদ শুভর সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন প্রিন্স, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শোভন রহমানসহ অনেকে।

তাদের অন্য দাবিগুলো হলো- স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস-পরীক্ষা চালু করা এবং করোনাকালে ফি না নেওয়া।

বক্তরা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, অফিস-আদালত সবকিছুর কার্যক্রমই চলমান আছে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা আসলেই করোনা চলে আসে। অনতিবিলম্বে ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল খুলে দিয়ে পরীক্ষা চালু করতে হবে। পরীক্ষার ফি মওকুফ করতে হবে। তা না হলে শিক্ষার্থীরা এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

নাসিরুদ্দিন প্রিন্স বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এর যেকোনো সিদ্ধান্ত কেবল একাডেমিক কাউন্সিল, সিনেট-সিন্ডিকেট সদস্যরা বাতিল করতে পারে। কেনো মন্ত্রী এই ক্ষমতা রাখেন না। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের গোলামে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের উচিত ছিলো শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া যায় তার জন্য একটা রোডম্যাপ তৈরি করা। কিন্তু সরকার একের পর এক শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মে মাসে হল খোলার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটা প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। তাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তামাশা না করে অনতিবিলম্বে আবাসিক হল খুলে দিতে হবে।

এদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা গ্রহণে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক অতুলন দাস আলো এক যৌথ বিবৃতিতে এই আল্টিমেটাম দেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনে তাদের দেওয়া আল্টিমেটাম অনুযায়ী স্থগিত পরীক্ষাগুলো মার্চের মধ্যে গ্রহণের উদ্যোগ না নিলে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনে রাজপথে নামবে।

এছাড়া, একই দাবিতে সন্ধ্যায় যৌথভাবে মশাল মিছিল বের করে বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দ্বীপ হয়ে শাহবাগ মোড় প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল এবং পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতারা বক্তব্য রাখেন।