স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে মার্চের প্রথম দিনেই রণাঙ্গনের ৯৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে ও উত্তরীয় পরিয়ে তাদের সম্মান জানিয়েছে চারটি সংগঠন।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ভাসানী অনুসারী পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদ এবং রাষ্ট্রচিন্তার সমন্বয়ে গঠিত জোটের উদ্যোগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে মুক্তিযোদ্ধাদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এক ব্যক্তি পাকিস্তানের জেলে থেকে একা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনেননি। আমরা সবাই মিলিতভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। তাই সবাই মিলে অসম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধকে সম্পূর্ণ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা সবসময় ৩০ লাখ শহীদের কথা বলি; কিন্তু সে তালিকাটি কোথায়? সেই তালিকা আছে ভারতের কাছে। সেই তালিকা ভারত দেয় না।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে দুর্ভিক্ষ আসন্ন। এ বছর এবং আগামী বছরে দেশে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্যের অভাব দেখা দিতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সংস্থার হিসাবে দেশে এ বছর এবং আগামী বছরে এক মিলিয়ন টন চাল ও প্রায় সাড়ে সাত মিলিয়ন টন গমের অভাব হবে। দেশে যদি সুশাসন না থাকে কত লোক মারা যাবে জানি না। তিনি বলেন, আজ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেওয়ার ক্ষুদ্র প্রয়াস করা হয়েছে। সেটার সঙ্গে আরেকটি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় এসেছে- নতুনভাবে দেশকে গড়তে হবে, অসম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধকে শেষ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যেককে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, রাষ্ট্রচিন্তার হাসনাত কাইয়ুমসহ নতুন প্রজন্মের নেতারা একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন। পরে মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেন।

সম্মাননা পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হুদা, ক্যাপ্টেন (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, মিজানুর রহমান খান, শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, আবুল বাশার, লায়লা পারভীন বানু, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোজাম্মেল হোসেন, একেএম রেজাউল হক প্রমুখ।

চার সংগঠনের পক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর। অনুষ্ঠানে ভাসানী অনুসারী পরিষদের নেতা ফরিদ উদ্দিন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্রচিন্তার আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম, ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।