জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় রোববার পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, পুলিশ ওই সময় চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে, ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।

সোমবার ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণে পালন করা হয় পুলিশ মেমোরিয়াল ডে।

দেশের প্রতিটি পুলিশ ইউনিটে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে দিবসটি পালিত হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রেস ক্লাবে অল্প কয়েকজন পুলিশ ঢুকেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। প্রেস ক্লাবের ভেতরে যেন বহিরাগত ব্যক্তিরা ঢুকতে না পারে, সে দায়িত্ব প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রেস ক্লাবের দিকে তাক করে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া, ভেতরে ঢুকে পড়ায় প্রেস ক্লাবও এখন অনিরাপদ কি না- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, প্রেস ক্লাব অনিরাপদ হয়নি।

আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, আমি আধা ঘণ্টা সাংবাদিকদের প্রচারিত খবর ও ছবি দেখেছি। তাতে দেখা যাচ্ছিল, একজন পুলিশ সদস্য এক জায়গায় একা দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাকে বড় বড় লাঠি দিয়ে পেটানো হচ্ছে। এরপরও চরম ধৈর্যের সঙ্গে পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।

তিনি বলেন, প্রেস ক্লাবের ভেতরে কোনোদিন পুলিশ ঢোকে না। তবে ওইদিন যেভাবে ইটপাটকেল ছোড়া হয়েছে, সে সময় দু-একজন হয়তো ঢুকেছে। ঘটনা যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল, তখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে।

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিহত হন। কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা বিধান করা না গেলে উন্নয়নের মুখ থুবড়ে পড়ত। পুলিশ বাহিনীর ওপর অর্পিত দায়িত্ব তারা যথাযথভাবে পালন করছে বলেই দেশ নিরাপদ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশ কারও প্রতিপক্ষ নয়, তাহলে পুলিশকে কেন প্রতিপক্ষ বানানো হয়। এই প্রশ্ন দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রতি।

তিনি বলেন, দেশের মধ্যে যে একটা ছোট অংশ আছে, সেটা দেখলেই বোঝা যায়। কারণ দেশের কোনো ভালো কিছুর প্রতি তাদের আগ্রহ নেই, দেশের কোনো অর্জনে তাদের কিছু আসে যায় না। এই দেশের ভিন্ন সংস্কৃতির, ভিন্ন চেতনার মানুষগুলো আমাদের দেশের মানুষ হিসেবে দাবি করে। এই মানুষগুলোকে আমাদের দেশের বৃহত্তর জাতিসত্তা থেকে আলাদা করার সময় এসেছে। এরা আমাদের জাতির অংশ নয়।

পুলিশ প্রধান বলেন, ওই ছোট একটা গ্রুপ যারা দেশের ভালোকিছু দেখে না এবং সমালোচনা করে, এমনকি তারা পুলিশের সমালোচনা করে, তাদের মুখে ছাই পড়ুক।

দায়িত্ব পালনের সময়ে হতাহত পুলিশ সদস্যদের অবদান স্মরণ করে পুলিশ প্রধান বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে পুলিশ সম্মুখ সারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) মো. মাজহারুল ইসলামসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানরা বক্তব্য রাখেন।