অর্থপাচারের মামলায় বহুল আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বিকেলে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশ ত্যাগ করেন। 

পি কে হালদারের দেশত্যাগ ঠেকাতে ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসবি সেই চিঠি পায় ২৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায়। পরে এসবি সে চিঠি দেশের সব স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ইউনিটকে পাঠায়।

ইমিগ্রেশন ইউনিট ওইদিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় সেই নির্দেশনা পায়। কিন্তু তার ঘণ্টা দুই আগে বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পি কে হালদার দেশ ত্যাগ করেন।

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ইমিগ্রেশন ইউনিটের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক সোমবার রাতে সমকালকে এসব তথ্য জানান। 

গ্রেফতার ও তার পাসপোর্ট জব্দ করার নির্দেশ দেয়ার পরও পি কে হালদার কিভাবে দেশত্যাগ করলেন তা নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন হাইকোর্ট। 

পি কে হালদার যে দিন দেশত্যাগ করেন সে দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে কারা দায়িত্বরত ছিলেন তাদের নামের তালিকা দাখিল করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের আইজিপিকে নির্দেশ দেন আদালত। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে এ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পি কে হালদারের পালানোর বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষকে মৌখিকভাবে তথ্য জানিয়েছে এসবির ইমিগ্রেশন ইউনিট।

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে দেশের অতিগুরুত্বপূর্ণ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজারে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, পি কে হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্সে এমডি থাকা অবস্থায় প্রভাব খাটিয়ে তার আত্মীয়-স্বজনকে বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির ইনডিপেনডেন্ট পরিচালক নিযুক্ত করেছিলেন। একক কর্তৃত্বে কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় পিপলস লিজিংসহ বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির টাকা আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীদের তিন হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করে কোম্পানিটিকে পথে বসিয়েছেন। 

কর্তৃত্ব খাটিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করে দেন। আমানতকারীদের শেয়ার সংক্রান্ত পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার বিক্রি করা হয়। ৩০টি কোম্পানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ঋণের নামে আত্মসাৎ করা হয় তিন হাজার কোটি টাকা। সেসব প্রতিষ্ঠানের নামে আত্মসাৎ করা তিন হাজার কোটি টাকা বিএফআইইউর মাধ্যমে ফ্রিজ করা হয়েছে। এ অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন দুদক উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।

মন্তব্য করুন