চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সংশোধনী অনুমোদন হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে সাত হাজার ৫০১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের তিন দশমিক ২৬ শতাংশ।

সংশোধিত এডিপিতে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা, যা মূল এডিপিতে ছিল দুই লাখ পাঁচ হাজার ১৪৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়। এনইসি চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী অনলাইনে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হন।

এনইসি বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সরকারের সচিব মোহাম্মদ ফজলুল বারী। পরিষদের সদস্যবর্গ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি), পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এ বছর আরএডিপিতে সরকারের নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়ন অংশ সংশোধনে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকার এ পরিমাণ বহাল আছে। তবে বিদেশি ঋণে বাস্তবায়ন করা অংশ ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমিয়ে ৬৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। মূল এডিপিতে বৈদিশিক সহায়তার পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা সচিব জানান, মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদার ভিত্তিতেই বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত মোট প্রকল্পের সংখ্যা এক হাজার ৭৮৫টি। এর মধ্যে নতুন অনুমোদিত ১৭২টি প্রকল্প। এছাড়াও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ১০১টি প্রকল্প সংশোধিত এডিপিতে আলাদা তালিকা হিসেবে বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এছাড়া সংশোধিত এডিপিতে ৪৮৯টি প্রকল্প বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৈদেশিক সাহায্যে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত ১৩০টি নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরেই বাস্তবায়ন কাজ শেষ হবে এরকম প্রকল্প সংখ্যা আছে ৪৪২টি।

সংশোধিত এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন খাত। এই খাতে ৪৯ হাজার ২১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে ২৬ হাজার ৪৯১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা ও ধর্মে মোট ২৪ হাজার ৫৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ ২১ হাজার ৯৪৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা এবং অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ২৮৯ কোটি ৭০ হাজার টাকা।

১০ মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ কমছে ২ হাজার কোটি টাকা: চলতি অর্থবছরের এডিপি থেকে ১০ মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ কমেছে এক হাজার ৯৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ আছে ৩৩ হাজার ৩২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সেখান থেকে কাঁটছাট করে সংশোধিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ৩৯১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

ব্রিফিংয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সময়ের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ২৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাস্তবায়ন পিছিয়ে থাকার কারণ ব্যাখ্যায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সদস্য সরকারের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, করোনার প্রভাব, একই ব্যক্তির অধীনে একাধিক প্রকল্প ও জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে সময়মতো এডিপি বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে।


মন্তব্য করুন