সারাদেশের থানাগুলোতে গত পাঁচ বছরে (২০১৬-২০২০) ২৬ হাজার ৬৯৫টি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার বিচারের সময়সীমা নির্ধারণে উচ্চ আদালতের আদেশ অনুসারে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে পুলিশ ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দেওয়া পৃথক দুটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার এসব প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এরপর আদালত শুনানির জন্য আগামী ২৩ মে পরবর্তী দিন ধার্য রাখেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান ও অ্যাডভোকেট শাহিনুজ্জামান শাহিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন করেন। এরপর গত বছরের ২১ অক্টোবর ধর্ষণের ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে বা অন্য কারণে সালিশে মীমাংসা করার উদ্যোগ প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় গত পাঁচ বছরে সারা দেশে থানা/আদালত/ ট্রাইব্যুনালে কতগুলো মামলা হয়েছে তার তথ্য জানাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া ধর্ষণ মামলার বিচারের সময়সীমা নির্ধারণে ইতিপূর্বে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ ও রায় বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশের মহাপরিদর্শকের পক্ষে অতিরিক্ত ডিআইজি রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে এ প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

দাখিল করা পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশের থানাগুলোতে গত ৫ বছরে ২৬ হাজার ৬৯৫টি ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৩৩১টি, ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৬৮৩টি, ২০১৮ সালে ৪ হাজার ৬৯৫টি, ২০১৯ সালে ৬ হাজার ৭৬৬টি ও ২০২০ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত ৬ হাজার ২২০টি মামলা দায়ের করা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল আপিল (৪৪১৭/২০১৬) মামলার রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩১ (ক) ধারার বিধান অনুসারে দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো সমন্বয় করে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনার আলোকে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে সভাপতি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বা তার প্রতিনিধি (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার নিচে নয়) এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব বা তার প্রতিনিধিকে (অতিরিক্ত সচিব পদ মর্যাদার নিচে নয়) সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি করা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০ (৩) ধারায় বলা হয়, বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল বিচারকাজ শেষ করবে।