প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমসহ বিশেষজ্ঞদের অনেকের আশঙ্কা ছিল, করোনায় বাংলাদেশে কয়েক কোটি মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। মৃত্যু হতে পারে কয়েক লাখ মানুষের। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে অর্থনীতি। কিন্তু এক বছরের মাথায় এসে সেই শঙ্কা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

গতকাল রোববার পর্যন্ত বাংলাদেশে সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর বিপরীতে সুস্থ হয়ে উঠেছেন প্রায় ৯২ শতাংশ মানুষ। আর মৃত্যুবরণ করেছেন সাড়ে আট হাজারের মতো মানুষ। দুই মাস ধরে করোনার সংক্রমণ নিম্নমুখী। মানুষ করোনাভীতি অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে। নিম্নমুখী সংক্রমণের মধ্যেই প্রতিষেধক টিকাদান কার্যক্রমে জনমনে স্বস্তি এসেছে। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা অর্থনীতি।

বৈশ্বিক করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়লেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি মিলেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) থেকে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে সংস্থাটি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশকে বের হয়ে যাওয়ার সুপারিশ করেছে। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভিয়েতনামের উন্নয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের মিল রয়েছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে জাতিসংঘের এই সুপারিশ অনন্য অর্জন বলে মনে করছে সরকারের হাইকমান্ড। অর্থনৈতিক বিশ্নেষকরাও সিডিপির সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে করোনা নিয়ন্ত্রণে অনন্য সাফল্যের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, কমনওয়েলথ থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং কূটনীতিকরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।

বিশ্নেষকদের অভিমত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা সচল রেখে বিশ্ববাসীর সামনে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। অথচ শুরুতে করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনায় সরব ছিলেন বিরোধীরা। বিশ্বনেতাদের স্বীকৃতির পর এখন তারাও নীরব। এটিও সরকারের আরেকটি বড় অর্জন বলে মনে করেন তারা।

করোনা নিয়ন্ত্রণের পথে বাংলাদেশ: গত বছরের জুলাইয়ের পর থেকেই দেশে করোনায় আক্রান্ত নতুন রোগী ও মৃত্যু দুটিই নিম্নমুখী। আর দুই মাস ধরে শনাক্তের হারও ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, সংক্রামক ব্যাধি সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে তখন এটি অন্যান্য সাধারণ রোগের মতোই গণ্য হবে। সে হিসেবে করোনাভাইরাসকে এখন এ দেশে একটি সাধারণ রোগ বলা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গতকাল রোববার পর্যন্ত সারাদেশে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৩৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ লাখ তিন হাজার তিনজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন আট হাজার ৪৬২ জন। সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সমকালকে বলেন, সংক্রমণ ও মৃত্যুহার নিম্নমুখী- এটি স্বস্তিকর। এর মধ্যেই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। শুরুতে মানুষের মধ্যে টিকা নিয়ে যে অনাগ্রহ ছিল তা কেটে গেছে। মানুষ টিকা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। টিকা গ্রহণে মানুষের স্বতঃস্ম্ফূর্ত সাড়া মিলেছে। এখন প্রয়োজন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি নিরাপদ দূরত্ব মেনে আরও কয়েক মাস চলতে পারলে হয়তো করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। সুতরাং সবার প্রতি আহ্বান থাকবে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সাফল্য: ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, করোনা মহামারিতে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ১১ কোটি ৭২ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬ লাখ এক হাজার ৫৩২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর বিপরীতে ৯ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে আক্রান্ত আছেন দুই কোটি ১৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৯ জন। আক্রান্তের হিসাবে সবার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পর্যন্ত দেশটিতে দুই কোটি ৯৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯১ জন আক্রান্ত হয়েছে। এরপর ভারতে এক কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ৭৯৯ জন, ব্রাজিলে এক কোটি ৯ লাখ ৩৯ হাজার ৩২০ জন, রাশিয়ায় ৪৩ লাখ ২২ হাজার ৭৭৬ জন, যুক্তরাজ্যে ৪২ লাখ ১৩ হাজার ৩৪৩ জন, ফ্রান্সে ৩৮ লাখ ৮২ হাজার ৪০৮ জন, স্পেনে ৩১ লাখ ৪৯ হাজার ১২৩ জন, ইতালিতে ৩০ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬২ জন, তুরস্কে ২৭ লাখ ৬৯ হাজার ২৩০ জন এবং জার্মানিতে ২৫ লাখ ২ হাজার ১২২ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৩৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছরের জুনে সংক্রমিত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ছিল ১৫তম অবস্থানে। এরপর ধাপে ধাপে তা কমে সংক্রমিত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ এখন ৩৪ নম্বরে অবস্থান করছে। মৃত্যুর তালিকায় রয়েছে ৩৮তম স্থানে। অথচ গত অক্টোবরেও বাংলাদেশ মৃত্যুর তালিকায় ২৯তম অবস্থানে ছিল।

করোনা মোকাবিলার সাফল্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা: করোনা মোকাবিলায় অসাধারণ নেতৃত্বের জন্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী তিন নারী নেতার একজন নির্বাচিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস সামনে রেখে ৪ মার্চ কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড এক ভিডিওবার্তায় বলেন, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আমি তিন অসাধারণ নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করতে চাই। তারা হলেন- নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন, বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলে ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কভিড মহামারি মোকাবিলায় তারা নিজ নিজ দেশে অসাধারণ নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করায় প্রশংসা করে চিঠি দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রস আধানম গেব্রিয়াসুস। টিকাদান কর্মসূচিতেও বাংলাদেশ ভালো করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। চিঠিতে মহাপরিচালক বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের চমকপ্রদ পদক্ষেপে জাতিসংঘসহ বিশ্বের নজর কেড়েছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত ওয়েবিনারে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন, আলজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূত, ভারতের হাইকমিশনারসহ বিদেশি মিশনগুলোর কূটনীতিকরা করোনা মোকাবিলায় সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

করোনা সামলে এগিয়ে চলছে অর্থনীতি: করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দেশে দেশে এই সংকট তীব্র হচ্ছে। ধনী-গরিব সব দেশের অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব পড়েছে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকগুলো ধুঁকছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কোটি কোটি মানুষ। ১৯৩০ সালের মহামন্দায় বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলো বিপাকে পড়েছিল। প্রায় দশকজুড়ে চলে সেই মহামন্দা। নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতি দুর্যোগের কবলে পড়ে।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট এমন সর্বজনীন মন্দা অর্থনীতিতে আর কখনও দেখা যায়নি। বিশ্বের প্রায় সব দেশের অর্থনীতিতেই এর প্রভাব পড়েছে। বেশিরভাগ দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সংকোচন হবে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে এর মধ্যেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো ধনী রাষ্ট্রগুলো এমনকি প্রতিবেশী ভারতের জিডিপি সংকুচিত হবে। তবে বাংলাদেশ বেশ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাব বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি বছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না বলে মনে করছে দাতা সংস্থাগুলো।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিডিপির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে বাংলাদেশ সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। এই হার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। এরপর মিসরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩.৫ শতাংশ, চীনে ১.৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনামে ১.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ ৫৩ দেশের প্রবৃদ্ধির হার মাইনাসে রয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির শুরুতেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থনৈতিক ক্ষতি সামাল দিতে ওই প্রণোদনা প্যাকেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে অর্থনীতি এখন অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় সফল অর্থনীতির দেশ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। গত এক দশকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক খাত। অথচ এ সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের রপ্তানি কিছুটা হলেও কমেছে।

নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাহসী সিদ্ধান্ত: জনস্বাস্থ্যবিদ ও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নেপথ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্ত। চলমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকা গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেছেন, এটি করতে পারলেই দেশ থেকে চিরতরে নির্মূল হবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একের পর এক সাহসী পদক্ষেপে অর্থনীতির গতি যেমন স্বাভাবিক রয়েছে, তেমনি করোনা নিয়ন্ত্রণেও সাফল্য এসেছে। এর সুফল পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী গতির মধ্যেই ৩১ মে ছুটি প্রত্যাহার করে তিনি সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। এরপর অফিস-আদালতসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান খুলে যায়। কাজে ফিরে কর্মহীন মানুষ। এতে অর্থনীতিতে গতি আসে।

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ সমকালকে বলেছেন, করোনা মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অর্থনীতির চাকা স্বাভাবিক রাখতে বেসরকারি খাতে আর্থিক প্রণোদনা ছিল ঐতিহাসিক ঘটনা। এতে করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠে বেসরকারি খাত। এর সুফল পাচ্ছে মানুষ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেন, করোনাকালীন বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে যত সমালোচনা হয়েছে, তা বিশ্বের আর কোনো দেশে হয়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগ সঠিক পথেই ছিল। তাই করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কারণ করোনা সংক্রমণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের সবগুলো মন্ত্রণালয় ও সংস্থা করোনা মোকাবিলায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে গেছে। এ কারণে করোনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গতি এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ থেকে শুরু করে সবাই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।