মাদক মামলায় এক মানিকের পরিবর্তে অন্য মানিক জেল খাটছেন- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে শরিয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। 

বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন।

এছাড়া মানিকের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন আদালত। আদেশে শরিয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রকৃত অপরাধী মানিক মিয়াকে চিহ্নিত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

একই সঙ্গে সিরাজগঞ্জের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ও জেল সুপারকে সব তথ্য হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে দিতে বলা হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী পার্থ সারথী রায় ও ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। মাদক মামলায় এক মানিকের স্থলে অন্য মানিক জেল খাটছেন- এমন অভিযোগ এনে 'নির্দোষ' মানিকের মুক্তি চেয়ে রিট করা হয়।

আইনজীবীরা জানান, ২০০৯ সালে একটি গাড়িতে ৬৬৮ বোতল ফেনসিডিল পাওয়ার অভিযোগে ওই বছরের ২ জুন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানায় চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে ওই মামলার আসামি মো. মানিক মিয়াকে ২০০৯ সালের ৩ জুন গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিছু দিন কারাভোগের পর একই বছর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান মানিক।

মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ আদালত রায়ে চার আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। আসামিরা হলেন- ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার মন্টু শেখ ওরফে জামাল উদ্দিন ও সোহরাব হোসেন, পটুয়াখালী বাউফল থানার জামাল হোসেন ও শরীয়তপুরের সখিপুর থানার মো. মানিক মিয়া।

মানিক হাওলাদারের ছোট ভাই রতন হাওলাদার বলেন, আমাদের বাড়ি শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলম চাঁন ব্যাপারী কান্দী গ্রামে। বাবার নাম নজরুল ইসলাম, মায়ের নাম রেজিয়া বেগম। আর মামলার প্রকৃত আসামি মো. মানিক মিয়ার বাবার নাম ইব্রাহিম মৃধা, মায়ের নাম লুতফা বেগম। গ্রাম মালতকান্দি, সখিপুরের ৬ নম্বর ওয়ার্ড। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি সাজাপ্রাপ্ত মো. মানিক মিয়ার পরিবর্তে শুধু নামের মিল থাকার কারণে আমার ভাই মানিক হাওলাদারকে শরীয়তপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।