কক্সবাজারের টেকনাফের মেয়ে লাকিংমে চাকমাকে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্মান্তর ও তার অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তের জন্য সোমবার আবার সময়ে চেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

লাকিংমের বাবা লালা অং চাকমার করা মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন খান সমকালকে বলেন, অপহরণের প্রায় এক বছর পর গত বছরের ৯ ডিসেম্বর লাকিংমে চাকমাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মৃত অবস্থায় পায় তার পরিবার। এরপর লাকিংমের বাবা লালা অং চাকমা ও কথিত স্বামী আতাউল্লাহর মধ্যে মরদেহ সৎকারের দাবিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় টানা ২৬ দিন লাশটি ওই হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকে। পরে আদালত মামলাটি আবারও তদন্তের জন্য র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারকে দায়িত্ব দেন। র‌্যাবের তদন্তে প্রমাণিত হয়, লাকিংমে অপ্রাপ্তবয়স্ক। এরপর আদালতের নির্দেশে মরদেহ বুঝে পান লাকিংমের বাবা লালা অং চাকমা। গত ২৪ জানুয়ারি রামু উপজেলার জাদিমুড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ মহাশ্মশানেই লাকিংমের শেষকৃত্যানুষ্ঠান হয়।

এ আইনজীবী বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া কথা থাকলেও র‌্যাব আরও অধিকতর তদন্তরের জন্য আদালতের কাছে সময় চেয়েছে। সোমবার সময় চেয়ে র‌্যাব আবেদন দিয়েছে। তবে সময় বাড়ানোর বিষয়ে আদালত এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

পুলিশ মামলা নিতে রাজি না হওয়ায় ২৭ জানুয়ারি কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মেয়েকে উদ্ধারের জন্য মামলা করেন লালা অং চাকমা। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কক্সবাজারের পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। পিবিআই গত বছরের ৯ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দিয়ে জানায়, লাকিংমে চাকমা অপহরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছেন র‌্যাব-১৫ এর এসআই অর্জুন চৌধুরী। তিনি সমকালকে বলেন, মামলাটি তদন্তের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। আর অল্প কিছু কাজ বাকি আছে। খুব দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারবো। এজন্য আরও কিছু দিন সময় লাগবে। সোমবার আদালতকে আমরা তদন্তের অগ্রগতি জানিয়েছি এবং কিছু দিন সময় চেয়েছে।

তিনি বলেন, লাকিংমেকে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্মান্তর ও হত্যা করা হয়েছিল কি না সেটিই আমাদের তদন্তের মূল বিষয় ছিল। এর বাইরে এই চক্রের সঙ্গে কারা কারা জড়িত ছিল সেটিও আমরা বের করার চেষ্টা করেছি।