সুশাসন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা এবং সব ক্ষেত্রে নারীর নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সোমবার এ আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন, 'দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাই নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন যেমন অসম্ভব, তেমনি নেতৃত্বে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া জেন্ডার সমতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়। জেন্ডার অসমতা ও দুর্নীতি পরস্পর সম্পর্কিত। বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে দুর্নীতির কারণে নারীর ক্ষমতায়ন ব্যাহত হয়।'

বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'যেসব দেশে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে সাফল্য এসেছে, সেসব দেশ দুর্নীতি প্রতিরোধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায়ও সফলতা পেয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির কারণে নারীর ক্ষমতায়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্জন ব্যাহত হচ্ছে।'

ড. জামান বলেন, 'করোনা অতিমারি থেকে উত্তরণে সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সমানতালে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অবদান অনেক। সম্প্রতি কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শীর্ষ অনুপ্রেরণাদায়ী নারী নেতৃত্বের স্বীকৃতি তার প্রমাণ।'

তিনি বলেন, 'কিন্তু এমন সময়েও নারীদের প্রতি সহিংসতা কিংবা নারীদের অবদমনের প্রক্রিয়া বন্ধ নেই। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, কভিড-১৯ অতিমারিকালে ৩০ দশমিক ৫৪ শতাংশ নারী শারীরিক নির্যাতনের, ২২ দশমিক ৯৯ শতাংশ নারী যৌন নিপীড়নের, ৭৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ নারী দৈনন্দিন জীবনাচার নিয়ন্ত্রণের এবং ৩৫ দশমিক ০৪ শতাংশ নারী অর্থনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ৪৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ নারী শারীরিক ও যৌন উভয় ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।' 

বিষয় : নারীর ক্ষমতায়ন টিআইবি নারী দিবস

মন্তব্য করুন