আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভা মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করে ৯৭ জনের নামে আদালতে আরেকটি মামলার আবেদন হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানকে মারধরের অভিযোগে তার স্ত্রী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান আরা বাদী হয়ে সোমবার নোয়াখালীর ৪ নম্বর আমলি আদালতে এই আবেদন করেন। বিকেলে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মোসলেহ উদ্দিন মিজান বাদীর আবেদনের ওপর শুনানি শেষে মামলাটি আমলে নেওয়ার এখতিয়ার না থাকার কথা উল্লেখ করে আবেদনটি ফেরত দেন। পাশাপাশি আবেদনটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করার পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে আব্দুল কাদের মির্জার বিরোধী গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলকে প্রধান আসামি করে ২৫৫ জনের বিরুদ্ধে সোমবার মামলা দায়ের হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কাদের মির্জার অনুসারী সালাউদ্দিন পিটন বাদী হয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের ২নং আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোসলে উদ্দিন মিজান শুনানি শেষে মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই নোয়াখালী কার্যালয়কে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী শংকর চন্দ্র ভৌমিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মিজানুর রহমান বাদলকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াতের স্ত্রী আরজুমান আরার মামলার আবেদনের বরাতে তার আইনজীবী হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার লোকজন গত ৮ মার্চ সন্ধ্যায় বসুরহাটে মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। হামলায় আহত খিজির হায়াত বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ সময় হামলাকারীরা 'ককটেল' বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় আরজুমান আরা বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা মামলা হিসেবে রেকর্ড না করায় বাদী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। 

তিনি বলেন, আদালতের পরামর্শ অনুযায়ী মঙ্গলবার তারা জেলার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে আবেদনটি দাখিল করবেন। বাদীর অভিযোগে আবদুল কাদের মির্জা ছাড়াও তার ছোট ভাই শাহাদাৎ হোসেন ও কাদের মির্জার ছেলে মির্জা মাশরুর কাদের তাসিককে আসামি করা হয়েছিল। এ ছাড়া আসামি দেখানো হয় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে।

মামলার আবেদনের বিষয়ে আবদুল কাদের মির্জা সমকালকে বলেন, আমাকে ঘায়েল করতে মিথ্যা মামলার আবেদন করেছেন খিজির হায়াতের স্ত্রী। কিছু লোক তার ওপর হামলা করতে উদ্যত হলে আমি তাকে রক্ষা করে রিকশায় তুলে নিরাপদে বাড়ি পাঠিয়েছি। এরপর খিজির হায়াত তার পাঞ্জাবি নিজে নিজে ছিড়ে আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছে। মিজানুর রহমান বাদল ও অপরাজনীতির হোতা একরামুল করিম চৌধুরীর নির্দেশেই খিজির হায়াত খানের স্ত্রী আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতে গেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে আমি এবং আমার কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিলাম না।

এর আগে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আলাউদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় রোববার একই আদালতে কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করে ১৬৪ জনের নামে আরেকটি মামলার আবেদন হয়েছিল। টানা দু'দিন থানার বারান্দায় ঘুরে মামলা করতে না পেরে আদালতের দারস্থ হন নিহত আলাউদ্দিনের ছোট ভাই এমদাদ হোসেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না তা কোম্পানীগঞ্জ থানাকে ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে বলে। এদিকে মামলার আবেদনের পর থেকে এমদাদ হোসেনকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। 

তার অভিযোগ, আদালতে যাওয়ার পর থেকে তাকে নানাভাবে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি যেহেতু ভাইয়ের হত্যার মামলটি নিয়ে থানা এবং আদালতে দৌড়াচ্ছি, সেহেতু আসামিদের এখন টার্গেট আমি। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। ছেলে হত্যার বিচার দাবি করে নিহত আলাউদ্দিনের মা মরিয়ম নেছা বলেন, আমাকে ফোন করে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। অনেকে বাড়িতে এসেও হুমকি দিচ্ছে।

বিষয় : আবদুল কাদের মির্জা বসুরহাট পৌরসভা

মন্তব্য করুন