দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ সংরক্ষণের কার্যক্রম সাইনবোর্ড, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও সভা-সেমিনারেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা পরিবেশ অধিদপ্তর অপরিকল্পিত ও অনুমোদনহীন স্থাপনা উচ্ছেদ ও পর্যটকদের চাপ নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটি সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন- কমিটি সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বজলুল হক হারুন এবং ফরিদা খানম।

বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শের সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে সৈকত ম্যানেজমেন্ট কমিটি তুলে দিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দায়িত্ব কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল এই সংসদীয় কমিটি।

জানা গেছে, কমিটির আগের বৈঠকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্রের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সঠিকভাবে পালন করতে পারছে না। সেন্টমার্টিন পরিবেশগত হুমকি দিন দিন চরম হয়ে উঠলেও পরিবেশ অধিদপ্তর কয়েকটি সাইনবোর্ড, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও সভা-সেমিনারের মাধ্যমেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে। এছাড়া সেখানে অপরিকল্পিত ও অনুমোদনবিহীন দোকানপাট উচ্ছেদ ও পর্যটকদের চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। 

ওই সময় তিনি সেন্টমার্টিন দ্বীপের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। পরে কমিটি এজন্য মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার সুপারিশ করে।

এদিকে মঙ্গলবারের বৈঠকে ওই সুপারিশের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বৈঠককে জানান, তারা সেন্টমার্টিনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যস্ত করার বিষয়ে শিগগরিই মন্ত্রী পরিষদ বিভাগকে চিঠি দেবে।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটি চট্টগ্রামের হালিশহরে মসজিদ সংলগ্ন ফাঁকা জায়গাটিতে পার্ক তৈরির সুপারিশ করেছে। এছাড়া চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বহুতল বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে সৃষ্ট জটিলতা দ্রুত নিরসনের জন্য আবারও টেন্ডার আহ্বান করে নতুন করে কার্যক্রম শুরুর সুপারিশ করা হয়।

মন্তব্য করুন