পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর দাবির মুখে আগের চেয়ে বাড়িয়ে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। গত সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন দর ঘোষণা করে। কিন্তু বাজারে এর চেয়েও বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধির কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে ভোজ্যতেলের দর নির্ধারণ করে সরকার। তখনও বাড়তি দরে বিক্রি করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

সরকার নির্ধারিত দর অনুযায়ী খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিনের সর্বোচ্চ দর ১১৭ টাকা। কিন্তু বৃহস্পতিবার বাজারে বিক্রি হয়েছে ১২১ টাকায়। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দর সর্বোচ্চ ১৩৯ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। অবশ্য বোতলজাত পাঁচ লিটার সয়াবিনের নির্ধারিত দর ৬৬০ টাকায় বা এর কমেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে। পাম সুপার তেলের লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০৯ টাকা। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১২ টাকায়।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তথ্যেও সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বাজারে বেশি দর। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী গত তিন দিনে খোলা ভোজ্যতেল লিটারে এক থেকে তিন টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া খোলা পাম তেলের দাম লিটারে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী আবুল কাশেম সমকালকে বলেন, কোম্পানিগুলো সরকারের নির্ধারিত দরে বিক্রি করলেও বাজারে দাম বাড়তি। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে দর বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার মৌলভীবাজারে বিক্রয় আদেশ অনেক বেশি দামে বেচাকেনা হচ্ছে। ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি পুরোপুরি পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভর করছে।

রমজানে বাড়তি চাহিদার পণ্য ভোজ্যতেলের মতো চিনির দামও বাড়তে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম কেজিতে তিন টাকা বেড়ে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া বাজারে আরেক দফা বেড়েছে মুরগির দাম। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বৃহস্পতিবার ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে সোনালি মুরগি এখন ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা হয়েছে। তবে ডিম আগের দামে ২৮ থেকে ৩০ টাকা হালিতে পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের মধ্যে প্যাকেট আটা কেজিতে এক টাকা বেড়েছে। এখন বিভিন্ন কোম্পানির আটা ৩৩ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দামও কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা হয়েছে। দেশি পেঁয়াজ আগের সপ্তাহের দামে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি রসুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আমদানি করা রসুন কমে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।