স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হারানোটা ছিল বাংলাদেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি। তবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ ধরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছেন।

শুক্রবার সকালে দুই দিনের সফরে ঢাকা পৌঁছেন রাজাপাকসে। হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এরপর তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। বিকেলে তিনি জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উৎসব মঞ্চে আসেন এবং বক্তব্য দেন।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯ সংক্রমণের সময়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সংহতি জানাতে তিনি সশরীর ঢাকায় এসেছেন। তার এই সফর দুই দেশের গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন।

দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলা নামের জনপদ থেকে প্রথম অভিবাসী শ্রীলংঙ্কায় পৌঁছায় দুই হাজার বছর আগে। বাংলার সঙ্গে সিংহলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক চলে আসছে ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে।

বঙ্গবন্ধুকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে রাজাপাকসে মহান এ নেতার অর্জন ও ত্যাগ নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের ব্রত ছিল বাংলাদেশের জনগণ, তাদের ভাষা আর কল্যাণ। তার দৃঢ় প্রত্যয়ী নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তিনিই বাংলাদেশের জনগণকে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখিয়েছিলেন, তা তিনি নিজে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ কবিতার কয়েকটি চরণ ইংরেজিতে পড়ে শোনান। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা সামনের সারিতে থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, দরিদ্র্য এবং দুর্যোগকে জয় করে বাংলাদেশ ক্রমাগত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ৫০ বছর আগে জন্ম নেওয়া একটি রাষ্ট্রের এই অর্জনের প্রশংসা অবশ্যই বাংলাদেশের সরকার আর জনগণের প্রাপ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমুদ্র ভিত্তিক অর্থনীতি ‘ব্লু-ইকোনমি’র প্রস্তাবে শ্রীলঙ্কাও অনপ্রাণিত বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, পূর্ব পুরুষের ত্যাগের কারণে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির প্রাণশক্তি। বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় শ্রীলঙ্কা পাশে আছে।

দুইবার টুইট:

শুক্রবার সকালে ঢাকায় রওনা হওয়ার আগে এবং ঢাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভ্যর্থনা গ্রহণের পর দুই দফা টুইট বার্তা দেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। প্রথম টুইট বার্তায় তিনি লিখেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন। উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান।

ঢাকায় আসার পর আরেকটি টুইট বার্তায় তিনি লিখেন, ঢাকায় বিমানবন্দরে তিনি উষ্ণ অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার পেয়েছেন। তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের স্বধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে তিনি সম্মানিত।