ফল ও ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এবার বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য এবং কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসানের তত্ত্বাবধানে লবণাক্ত সহিষ্ণু, উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্প সময়ে উৎপাদন করা যায় এমন তিনটি সরিষার জাত উদ্ভাবিত হয়েছে।

জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি প্রকল্পের পিএইচডি প্রোগামের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) যৌথভাবে জাতগুলো উদ্ভাবনে কাজ করেছেন। গবেষণাটির প্রধান গবেষক ছিলেন বিএআরইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফেরদৌসী বেগম। এ ছাড়াও সহকারী গবেষক হিসেবে ছিলেন বাকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক ও কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম এবং বিএআরআইয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রোজিনা আফরোজ।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে ‘স্বল্প মেয়াদে লবণ সহনশীল র‌্যাপসীড জাতের সরিষার বিকাশ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে উদ্ভাবিত সরিষার জাত তিনটি হল ‘বাউ সরিষা-১’, ‘বাউ সরিষা-২’ এবং ‘বাউ সরিষা-৩’। উদ্ভাবিত জাতগুলো ১২ ডেসিসিমেন্স পর্যন্ত লবণ সহনশীল। উদ্ভাবিত জাত তিনটি লবণাক্ত মাটিতে প্রতি হেক্টরে ২ দশমিক ৫ মেট্রিক টন এবং স্বাভাবিক মাটিতে প্রতি হেক্টরে ৩ মেট্রিক টন ফলন দেবে। এছাড়াও এই জাতগুলো থেকে ৪০-৪১ শতাংশ তেল পাওয়া যাবে। জাতগুলো অলবণাক্ত ও লবণাক্ত উভয় এলাকায় চাষ করা যায় বলে দেশে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। উদ্ভাবিত জাত তিনটি ইতোমধ্যে জাতীয় বীজ বোর্ড থেকে নিবন্ধিত হয়েছে।

কর্মশালায় কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শরীফ আর রাফির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী পরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, কৃষি অনুষদীয় ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম, উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সহ-সমন্বয়ক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু হাদী নূর আলী খান।

গবেষকরা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা প্রায় ৫১ দশমিক ২৭ লাখ মেট্রিক টন। যার মধ্যে ৪৬ দশমিক ২১ লাখ মেট্রিক টন আমদানি করতে হয়। এর মূল্য প্রায় ২৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে সরিষা, তিল ও সূর্যমুখী থেকেই সাধারণত ভোজ্য তেল তৈরী করা হয়। দেশের মানুষ গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ গ্রাম করে তেল খায়। দেশে মোট ৪ দশমিক ৪৪ লাখ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয় এবং তা থেকে ৬ দশমিক ৫ লাখ মেট্রিক টন সরিষা উৎপন্ন হয়। উৎপাদিত এই সরিষা থেকে ২ দশমিক ৫০ লাখ টন তেল পাওয়া যায়। উদ্ভাবিত নতুন জাতের সরিষাগুলো চাষাবাদের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভোজ্যতেলের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব এবং চাষাবাদে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে দাবি গবেষকদের।

বিষয় : ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাকৃবি

মন্তব্য করুন