বন আইন যুগোপযোগী করে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রোববার আন্তর্জাতিক বন দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাবে বাংলাদেশে বার্ষিক বন উজাড় হওয়ার হার বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ, যা ২ দশমিক ৬ শতাংশ। গত ১৭ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৬ বর্গকিলোমিটার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইন ফরেস্ট ধ্বংস করা হয়েছে, যা উদ্বেগের। আর বন বিভাগের হিসাবে সারাদেশে দখল হয়ে গেছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৩ একর বনভূমি। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি।

টিআইবি মনে করে, ৯৪ বছরের পুরোনো আইনে বন, বনভূমি এবং বনজসম্পদ সংরক্ষণে আইন প্রয়োগে যেমন চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি আইনগুলোর কার্যকর প্রয়োগে বন অধিদপ্তরের সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে। সম্প্রতি খসড়া বন আইন-২০১৯ প্রণয়ন করা হলেও বন বিশেষজ্ঞরা এটিকে ১৯২৭ সালের বন আইনের পুনর্মুদ্রণের নামান্তর বলে অভিহিত করেছেন।

বন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতে করণীয় হিসেবে টিআইবি ১২ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বন আইন যুগোপযোগী করা, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে আইনের কঠোর প্রয়োগ, উন্নয়নের নামে সংরক্ষিত বনভূমি বরাদ্দ ও ব্যবহার বন্ধ, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে বনভূমি ব্যবহার ও ডি-রিজার্ভের পূর্বে বন অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বননির্ভর পরিবারের ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণ, বন অধিদপ্তরে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা।