ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে দুই দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, শান্তি-সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বার্তা বয়ে নিয়ে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের নেতারা। তারা বলেন, এই সফর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব ও আন্তরিকতার সাক্ষ্য বহন করবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ আবেদ আলী লিখিত বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরেন।

সংগঠনের সভাপতি সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিল, খাদ্যের ব্যবস্থা করেছিল। তাদের অবদানের কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, 'মোদির ব্যক্তিগত জীবন আমরা দেখব না। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশে আসছেন, যা এ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার প্রতি বাংলার জনগণ শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাবে এটাই আমার প্রত্যাশা।'

সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ আবেদ আলী বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রায় এক কোটি বাঙালি আশ্রয় নিয়েছিল। সেই দুর্দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ভারতের ভূমিকা বাঙালি জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দেশের ধর্মীয় দলগুলোকে বৈদেশিক নীতি সম্পর্কে আরও সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের তিনদিকে ভারত, একদিকে সাগরবেষ্টিত, তাই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে সব অধিকার আদায় যুক্তিসঙ্গত। 

গত ৯ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতু উদ্বোধন করেন। এতে দক্ষিণ আসাম, মিজোরাম এবং মণিপুরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়বে। পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি জীবনরেখা হয়ে উঠবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের বিরোধিতা প্রসঙ্গে মহাসচিব বলেন, মুসলিম বিশ্বের অন্য কোনো দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধর্মবিদ্বেষী আখ্যায়িত করে বয়কট বা নিষিদ্ধ করেনি। তবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নরেন্দ্র মোদির সফর কেন্দ্র করে একটি মহলের অপতৎপরতা ২০১৩ সালের ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতার পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎ বাতিলের ঘটনা মনে করিয়ে দেয় এবং তা একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, জবির অধ্যাপক ড. আহমেদ আবুল কালাম, পরিচালক ড. মাসুম চৌধুরী, কৃষিবিদ ড. আজাদুল হক প্রমুখ।