২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মিলনায়তনে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে এবং উপসচিব অতিন্দ্রনাথ দত্তের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক।

মোজাম্মেল হক বলেন, একাত্তরের গণহত্যার বিষয়টি আমরা প্রথমে কূটনৈতিকভাবে সারাবিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি, যাতে ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস স্বীকৃতির জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব করা হলে কেউ আপত্তি জানিয়ে সেই প্রস্তাব বাতিল করতে না পারে।

শাজাহান খান ১ ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালন এবং একাত্তরে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য বাধ্য করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ব্যাপক গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও 'গণহত্যার আর্কাইভ' করার পরামর্শ দেন। এতে তিনি বলেন, আমরা প্রথম থেকে বিজয়কে গুরুত্ব দিয়েছি। তাই গণহত্যা, নির্যাতন আড়ালে পড়ে গেছে। গণহত্যার সংখ্যা নিয়েও রাজনীতি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা একটি জরিপে দেখেছি, মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশের মানুষের ওপর ৪৮ রকমের নির্যাতন চালিয়েছে তারা। এগুলো আমরা তুলে ধরিনি। বলা হচ্ছে, দুই লাখ মা-বোনকে নির্যাতন-ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি যে গবেষণা করেছি, সেখানে পাঁচ লাখেরও বেশি ধর্ষণের ঘটনা পাওয়া গেছে। হাইকোর্ট আমার গবেষণাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।