ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে আয়োজিত বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচিতে দিনভর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব হামলায় ঢাবিতে কর্মরত দুই সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের ৩০ জনের মতো নেতাকর্মী আহত হন।

সকালে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে 'বাংলাদেশের জনগণ' ব্যানারে টিএসসি এলাকায় 'জিয়াফতের' আয়োজন করে একদল লোক। নরেন্দ্র মোদির আগমনকে বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের শেষকৃত্যানুষ্ঠান হিসেবে নাম দেয়। অনুষ্ঠান আয়োজকদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে একজন আহত হন। সন্ধ্যায় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল বের করলে ভিসি চত্বর এলাকায় দ্বিতীয় দফায় হামলা করে ছাত্রলীগ। এ সময় সংগঠনটির ২৫ নেতাকর্মী আহত হন। পরে টিএসসি এলাকায় অবস্থানরত প্রথম আলোর ঢাবি প্রতিবেদক আসিফ হাওলাদার ও বাংলা ট্রিবিউনের ঢাবি প্রতিনিধি আবিদ হাসান রাসেলকে মারধর করা হয়। আবিদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদিকে আসিফ হাওলাদারকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং সেখান থেকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলার সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সহস্রাধিক নেতাকর্মী নিয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে অবস্থান নেন।

ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পেছন থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করে। আমরা পালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কোয়ার্টারে অবস্থান নিলে গেট ভেঙে সেখানে প্রবেশ করে আবারও হামলা করে তারা।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ছাত্রলীগ কারও ওপর হামলা করেনি। রাতে কিছু লোক ফুলার রোড দিয়ে বাঁশ, লাঠি নিয়ে আসছিল। এ সময় তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে আবার তারা ফুলার রোড দিয়ে চলে যায়। সাংবাদিকদের মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, দেখা যায় যে অনেকে কার্ড বানিয়ে সাংবাদিক সেজে ঘুরে বেড়ায়। যার কারণে অনেক সময় সাংবাদিক আর অসাংবাদিকের চিহ্নিত করা যায় না। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চিনতে পারেনি, তাই তারা না বুঝে হামলা করেছে।