স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর আয়োজনে অংশ নিতে দু'দিনের সফরে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে বিমানবন্দরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

নরেন্দ্র মোদির এটি দ্বিতীয় বাংলাদেশ সফর। এর আগে ২০১৫ সালের ৬ ও ৭ জুন বাংলাদেশ সফরে আসেন তিনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সেই সফরে দুই দেশের স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এবার জাতির মাহেন্দ্রক্ষণে তার এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাইলফলক যোগ হবে বলে সরকার আশা করছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর তিনি ঢাকায় তার জন্য নির্ধারিত হোটেলে আসবেন। বিকেলে তিনি জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। এর পর তিনি যাবেন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-বাপু জাদুঘর উদ্বোধন করবেন। রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

সফরসূচি অনুযায়ী, ২৭ মার্চ সকালে হেলিকপ্টারে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী মন্দিরে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু সমাধিস্থলে যাবেন। এরপর ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করবেন।

টুঙ্গিপাড়া থেকে ফিরে বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবেন নরেন্দ্র মোদি। এখানেই দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন ও কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তিনি যাবেন বঙ্গভবনে। সেখানে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

পাঁচটির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের সম্ভাবনা: বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে এক অনুষ্ঠান শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পাঁচটির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এরই মধ্যে কিছু বিষয়ে উভয়পক্ষ সমঝোতায় এসেছে। কিছু বিষয়ে সমঝোতার জন্য দেনদরবার চলছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, কারও কারও ভিন্নমত থাকতে পারে। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিরোধিতা করতে পারেন। কিন্তু কয়েকজন মানুষের বিরোধিতার কোনো প্রভাব এই সফরে পড়বে না। দুই দেশের বেশিরভাগ মানুষ এই সফরে খুশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে কানেকটিভিটি, বাণিজ্য, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।