ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করতে দলগুলোর প্রতি ৭৬ সুপারিশ

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ এবারও নেই: টিআইবি

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ এবারও নেই: টিআইবি

ছবি- সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৩ | ২২:২৫

জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ার মতো পরিবেশ এবারও দেখা যাচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সত্যিকার অর্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে যা বোঝায়, তা এবারও হচ্ছে না। হয়তো নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে ক্ষমতায় কারা থাকবেন, সেটিও নির্ধারিত হবে। তবে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হবে না। তাদের মধ্যে আস্থা ফিরবে না। এটি উদ্বেগের।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। 

‘গণতন্ত্র, সুশাসন ও শুদ্ধাচার চর্চার রাজনৈতিক অঙ্গীকার: টিআইবির সুপারিশমালা’ তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। টিআইবির গবেষক কাওসার আহমেদ সুপারিশমালা তুলে ধরেন। এতে ৯টি বিষয়ের ওপর ৭৬টি সুপারিশ করা হয়।

সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে– আবারও না ভোটের প্রচলন করা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সংসদীয় আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল বাতিল করার ক্ষমতা রহিত করে ইসির ক্ষমতা সংকুচিত করার ধারা পরিবর্তন করা। বিচার বিভাগের নিয়োগ, পদায়ন, বদলিসহ বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। সৎ সরকারি কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধ করা।

আগেও বিভিন্ন সময়ে সুপারিশগুলো করা হয়েছে জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এবারও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে সুপারিশগুলো আমরা পাঠাব।

তিনি বলেন, ৫০ বছর ধরে আমরা আসনভিত্তিক সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করেছি। আমরা মনে করি, এখন সময় এসেছে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদ প্রতিষ্ঠা করা। এটি নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। 

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অনেক উপাদান আছে। এর মধ্যে অন্যতম নির্বাচনকালীন সরকারে দলীয় ও স্বার্থের প্রভাবমুক্ত ভূমিকা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ছাড়া সংসদে প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র, সুশাসন ও শুদ্ধাচারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রাজনৈতিক দল। এখানে তারা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে, তাদের হাতে ক্ষমতা। এখানেও সংস্কার জরুরি। 

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের প্রতি আনুগত্যকে প্রাধান্য দিতে হবে। অর্থকড়ি, পেশিশক্তি আছে বা অন্য পরিচয়ের কারণে মনোনয়ন দিলে সত্যিকারের রাজনীতিবিদরা  হারিয়ে যাবেন। 

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, সাময়িক রাজনৈতিক সুবিধার হাতিয়ার হিসেবে তাদের যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, তাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা খাদের কিনারে পৌঁছেছে। এই সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন সবার মতামত বিবেচনায় নিয়ে সংস্কার করতে হবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইনগুলোয় প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি।

আরও পড়ুন

×