তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে রোববার। করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে সব ধরনের সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ভোটকেন্দ্রে। ভোট গ্রহণের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঢাকায় হোটেল র‌্যাডিসনে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। চট্টগ্রামে নির্বাচন হবে বিজিএমইএর আঞ্চলিক কার্যালয়ে।

নির্বাচিত ৩৫ পরিচালক আগামী ১৬ এপ্রিল সভাপতি এবং সাতজন সহসভাপতি নির্বাচন করবেন। ১৯ এপ্রিল চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে। ২০ এপ্রিল বিজিএমইএর বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) দায়িত্ব গ্রহণ করবে নবনির্বাচিত কমিটি। নির্বাচনে দুটি প্যানেলের পক্ষে ৭০ জন ব্যবসায়ী পরিচালক পদে নির্বাচন করছেন। সম্মিলিত পরিষদ নামে প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জিয়ান্ট গ্রপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান। অন্যদিকে ফোরামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হান্নান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন। দু'জনই বিজিএমইএর সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এক সময়।

নির্বাচন বোর্ড কার্যালয় থেকে পাঁচটি সতর্কতা মেনে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক পাওয়া না গেলে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, হাত স্যানিটাইজড ও ভোট প্রদান শেষে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করা।

চূড়ান্ত তালিকায় এবার মোট ভোটার দুই হাজার ৩১৪ জন, যার মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে এক হাজার ৮৫৩ এবং বাকি ৪৬১ জন চট্টগ্রাম অঞ্চলের। কোটা অনুযায়ী ঢাকা অঞ্চল থেকে ২৬ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ৯ জন নির্বাচিত হবেন।

সম্মিলিত পরিষদের দলনেতা ফারুক হাসান সমকালকে বলেন, সহসভাপতির পদসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তিনি দীর্ঘদিন বিজিএমইএকে সেবা দিয়েছেন। নতুন বাজার সৃষ্টি, তথ্য এবং গবেষণা ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে কাজ করেছেন। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) জিএসপি প্লাস নিয়ে আলোচনায় ইইউ প্রতিনিধিদের ঢাকায় আনার ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কারণে এফবিসিসিআই, বিটিএমএ ও বিকেএমইএর সাবেক ও বর্তমান নেতারা তাকে সমর্থন দিয়েছেন। এসব বিবেচনা থেকে শিল্পের স্বার্থে ভোটাররা তাদের প্যানেলকে বিবেচনায় নেবেন, তার সেই আত্মবিশ্বাস আছে।

ফোরামের দলনেতা এবিএম সামছুদ্দিন সমকালকে বলেন, সাধারণ একজন শ্রমিক থেকে একজন উদ্যোক্তা কিংবা ক্রেতা অর্থাৎ সব পক্ষকেই ফোরাম সম্মান দিয়ে থাকে। ফোরামের লক্ষ্য থাকে যেন কোনোরকম ভয়ভীতি ছাড়াই যে কেউ তার ন্যায্য বক্তব্য এবং অধিকার জানাতে পারে। তার কারখানার শ্রমিকরাও বিষয়টি ভালোভাবে বলতে পারবেন। ভোটাররা এটি বিবেচনায় নেবেন। ফলে জয়ের বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম সমকালকে বলেন, শিল্পের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই সম্মিলিত প্যানেলের প্রার্থীদের জন্য সমর্থন আদায়ে কাজ করছেন তারা। ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে এ প্যানেলের নেতাদের ভালো সম্পর্ক। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাংসদ আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এবং মেয়র আতিকুল ইসলাম এই প্যানেলের সঙ্গে আছেন। শিল্পের স্বার্থে সরকারের নীতিনির্ধারণে প্রভাব তৈরি করতে পারবেন তারা।