সাত দিনের লকডাউনের সিদ্ধান্ত বিজ্ঞানসম্মত হয়নি। করোনাভাইরাসের সুপ্তিকাল ১৪ দিন। অর্থাৎ করোনাভাইরাস একজনের শরীরে ১৪ দিন পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। শরীরে প্রবেশের ১৪তম দিনেও ভাইরাসটি সুপ্ত অবস্থা ভেঙে প্রকাশ্যে আসতে পারে। অর্থাৎ রোগ তৈরিতে সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এ জন্য বৈজ্ঞানিক বিবেচনা থেকে লকডাউন দিলে তা কমপক্ষে দুই সপ্তাহ অর্থাৎ ১৪ দিন হওয়া প্রয়োজন ছিল। একটি ধাপের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে নূ্যনতম ১৪ দিন লাগে। এরপর দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ২৮ দিন লকডাউন করা প্রয়োজন ছিল। সাত দিন পর লকডাউন তুলে নিলে তা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কোনো কাজে আসবে না।

লকডাউন মানে হলো পুরোপুরি সবকিছু বন্ধ রাখা। জরুরি সেবা অর্থাৎ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, ওষুধের দোকান খোলা থাকবে। সীমিত পরিসরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দোকানও খোলা থাকবে। অফিস-আদালত সবকিছু অনলাইনে চলবে। সার্বিকভাবে এ সময়ে মানুষকে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হবে। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, সরকারি অফিস-আদালত ও শিল্পকারখানা খোলা থাকবে। তাহলেও তো লকডাউন হলো না।

গত বছর সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ গ্রামে ফিরে যায়। আবার গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরে আসে। এতে করোনা গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ে। আশা করেছিলাম, গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার পরিণত সিদ্ধান্ত নেবে। মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নেবে। কিন্তু দেখা গেল, করোনা মোকাবিলায় সরকার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, সেটি বিজ্ঞানসম্মত নয়। আবার আগেভাগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা ছাড়াই হুট করে সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হলো। এতে লঞ্চ-বাস-ট্রেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর বাজার সর্বত্রই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এতে সংক্রমণ আরও বাড়বে। যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রাক্তন উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়