লকডাউনের মধ্যে শুধু মহানগর এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতিতে বাসের চলার পথ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা  দিয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, শুধুমাত্র সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় বাস ও অন্যান্য যাত্রীবাহী যান চলবে সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। এক সিটির গাড়ি আরেক সিটিতে প্রবেশ করতে পারবে না। 

চালক, মালিক ও যাত্রীরা প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কি ঢাকা উত্তর মিরপুর থেকে বাস দক্ষিণ সিটির গুলিস্তানে যাবে না? উত্তর সিটির আবদুল্লাহপুর থেকে বাস গাজীপুর সিটির টঙ্গীতে যাবে না? দক্ষিণ সিটির যাত্রীবাড়ি থেকে বাস নারায়ণগঞ্জ যাবে না? 

এ বিষয়ে জানতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমকালকে বলেন, অনেকেই এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে ভুগছেন। জানতে চেয়েছেন, ঢাকা থেকে সাভার রুটে যে সিটি সার্ভিসের বাস চলে, তা চলবে কিনা? 

তাদের জন্য বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেছেন, ঢাকা থেকে সাভার রুটের বাস চলতে পারবে না। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার সীমানা পর্যন্ত বাস চলবে। অর্থাৎ গাবতলী সেতু পর্যন্ত যেতে পারবে বাস। গাবতলী সেতুর পর ইউনিয়ন পরিষদভুক্ত এলাকা। ওখানে বাস চলবে না। বাকি পথ রিকশা বা হেঁটে যেতে হবে। ঢাকা সিটি থেকে বাস গাজীপুর সিটিতে যাবে না। শুধু নিজ নিজ সিটির মধ্যে চলবে। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ সব তো আলাদা জেলা। আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লার বাস চলার অনুমতি দেয়নি সরকার। 

সড়ক পরিহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ সমকালকে বলেন, তারা বিষয়টি নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলেছেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, শুধুমাত্র মহানগরের মধ্যে গণপরিবহন চলবে। বাইরে যাবে না। 

সাধারণ বাস মালিক ও যাত্রীরা জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে সাভার, কালীগঞ্জ, আশুলিয়াসহ যেসব শিল্প এলাকা রয়েছে, সেখানকারই যাত্রী বেশি। লকডাউনে কলকারখানা খোলা থাকায় শহর থেকে শিল্পাঞ্চলগুলোর যাত্রীই বেশি। কিন্তু গণপরিবহন শুধুমাত্র সিটি এলাকায় চলার অনুমতি থাকায় শিল্পাঞ্চলে বাস যাবে না। 

একাধিক মালিক নেতা এ সিদ্ধান্তকে তালগোল পাকানো ও হাস্যকর বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী উপকণ্ঠ এলাকায় বাস চলে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (আরটিসি) অনুমোদিত রুটে। এ কমিটির প্রধান ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার। ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) নামে সরকারের স্বতন্ত্র একটি সংস্থা রয়েছে এই এলাকার পরিবহন ব্যবস্থাপনার জন্য। পরিবহন মালিক নেতারা সমকালকে বলেছেন, আরটিসি অনুমোতি রুটে চলাচলকারী বাস কিংবা ডিটিসিএ’র আওতাধীন এলাকায় গণপরিবহন চলার অনুমতি দিলে সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো। ঢাকা পরিবহন ব্যবস্থায় ‘ট্রিপ’ হয় এই এলাকার মধ্যেই। 

চামড়ার ব্যবসা করা মিরাজ হোসেন ঢাকার হাজারীবাগের বাসা থেকে রোজ সাভারের হরিণাকুন্ডের ট্যানারি পল্লীতে যাতায়াত করেন। লকডাউনে ট্যানারি পল্লী খোলা। উৎপাদনও চালু রয়েছে মিরাজের প্রশ্ন তিনি কি জিগাতলা থেকে বাসে বছিলা বুদ্ধিজীবী সেতু পর্যন্ত যেয়ে নেমে যাবেন? বাকি পথ তাহলে কীভাবে যাবেন? 

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্ধেক আসন খালি রেখে ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়ায় চলবে গণপরিবহন। গত ৩১ মার্চ থেকে পাঁচদিন অর্থাৎ লকডাউন শুরুর পর আগ পর্যন্ত এ পদ্ধতিতেই গণপরিবহন চলেছিল। এতে যানবাহন সঙ্কটে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাস মেলেনি। অফিস আদালত খোলা রেখে লকডাউন জারির পর গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ আরো বাড়ে।

মঙ্গলবার সংসদ ভবনের বাস ভবন থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে লকডাউন বহাল থাকলেও সরকারি-বেসরকারিসহ প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের যাতায়াতে দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় করে সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকবে। 

মন্ত্রী বলেছেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। ট্রিপের শুরু এবং শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবানুমুক্ত করতে হবে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়তে হবে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই সমন্বয়কৃত ভাড়া বেশি নেওয়া যাবে না। 

মন্তব্য করুন