কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের মানরা গ্রামের অটোরিকশাচালক বিল্লাল হোসেন এইচএসসি পর্যন্ত পড়েছেন। অভাব-অনটনের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। তবে সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন। তার সে স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।বিল্লালের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এর মধ্যে বড় দুই ছেলে আরিফুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম যমজ। এবার মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার যমজ এ দুই ভাই উত্তীর্ণ হয়েছেন।

ফলাফলে দেখা যায়, আরিফুল সারাদেশে ৮২২তম হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে, আর শরিফুল ১১৮৬তম হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের এমন সফলতায় বাবা-মা, এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা মহাখুশি। বিল্লালের আরেক ছেলে সাইফুল ইসলাম স্থানীয় আশিয়াদারী গ্রামের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। মেয়ে আমেনা আক্তার পড়ছে চতুর্থ শ্রেণিতে।

২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের মান্দারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পান আরিফ ও শরিফ। এর পর তারা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজে। সেখানেও বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পান তারা।

বিল্লাল হোসেন সমকালকে বলেন, অর্থাভাবে নিজে পড়াশোনা করতে পারিনি। সব সময় চেয়েছি, সন্তানরা উচ্চশিক্ষিত হয়ে আমার সে কষ্ট দূর করুক। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া- স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। তিনি বলেন, মান্দারগাঁও স্কুলের শিক্ষক প্রয়াত নুরুজ্জামান ভূঁইয়া খোকন আমার ছেলেদের জন্য অনেক করেছেন। আজ তিনি বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন। অন্য শিক্ষকরাও তাদের গড়ে তুলতে অনেক অবদান রেখেছেন। উচ্চ মাধ্যমিকে ছেলেদের পড়াশোনার খরচ চালাতে কষ্ট হচ্ছিল। তখন দু'জন শিল্পপতি এবং এলাকার মানুষ আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। সবার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।

মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর মা নাসরিন আক্তার বলেন, ছেলেরা মানবিক ডাক্তার হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করুক- সেটাই চাই। আরিফুল ও শরিফুল বলেন, চিকিৎসক হয়ে বাবা-মা, শিক্ষকসহ যারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।

মান্দারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক দিলীপ কুমার শীল বলেন, তাদের সাফল্যে বিদ্যালয়ের প্রতিটি সদস্য গর্বিত।


বিষয় : কুমিল্লা মেডিকেলে ভর্তি

মন্তব্য করুন