জাতিসংঘের বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২১ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের শুভেচ্ছাদূত সায়মা ওয়াজেদ। এ সময় তিনি বলেন, মহামারিকালে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হওয়ার ফলে সারাবিশ্বে অটিজমের শিকার শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘে 'কভিড-১৯ মহামারির সময়ে অটিজম : বৈশ্বিক সাড়াদান ও পুনরুদ্ধারে প্রযুক্তি কিভাবে সহায়তা করতে পারে' শীর্ষক ভার্চুয়াল সাইড ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘের বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কুয়েত, পোল্যান্ড, কাতার ও কোরিয়ার স্থায়ী মিশন এবং জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলি বিভাগ ও অটিজম স্পিক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। খবর বাসসের

সভায় বক্তব্যে কভিড-১৯ মহামারির সময় অটিজম আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা পদক্ষেপ গ্রহণ ও তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বাংলাদেশের উত্তম অনুশীলনগুলো তুলে ধরেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যমান সামাজিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শক্তিশালী তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং বিস্তৃত কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা অনেক পরিবারকে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করেছে।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন সমাজে অটিজমের শিকার পরিবারগুলো যেসব সামাজিক চ্যালেঞ্জ ও নিগ্রহের মুখোমুখি হয়, তার উদাহরণ টেনে সায়মা বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে টেকসই ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনতে পেরেছে।

চলমান পরিস্থিতিতে অটিজমের ক্ষেত্রে বাড়তি সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবার যে ধরনের সামাজিক নিগ্রহের শিকার হয়, তা মোকাবিলাসহ এ-সংক্রান্ত সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে নিয়ে সাত বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের অটিজমবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি।

অনুষ্ঠানে অটিজম-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, প্রতিশ্রুতি এবং গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা। তিনি বলেন, 'প্রতিবন্ধিতা ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারের শিকার ব্যক্তিবর্গের সুরক্ষায় বাংলাদেশে শক্তিশালী আইন ও বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বিভিন্নমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে- প্রতিবন্ধিতা সহায়ক ই-সেবা, রেফারেল সেবা এবং দেশব্যাপী সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো।'

মন্তব্য করুন