হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝরনার ছেলে আবদুর রহমান জামি গতকাল রাতে পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তার মা ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি।

জিডিতে জামি বলেন, ঢাকার নর্থ সার্কুলার রোডের যে বাসায় তার মা সাবলেট থাকতেন, সেখান থেকে তিনটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়। ওই বাসার মূল ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে তিনটি ডায়েরি তার হস্তগত হয়। ডায়েরিগুলো সংরক্ষণের ব্যাপারে জামি উদ্বিগ্ন। নর্থ সার্কুলার রোডের যে বাসায় তার মা থাকতেন সেই বাড়ির মালিক তাকে জানিয়েছেন, গত শনিবারের পর ঝরনা আর বাসায় ফেরেননি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ডায়েরিগুলোতে এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যার মাধ্যমে অনেকের গোপন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তাই ছেলে তার মায়ের ডায়েরি সংরক্ষণের ব্যাপারে আইনি সহায়তা চেয়েছেন। পুলিশ সব ধরনের আইনি সহায়তা দেবে। ডায়েরি অনেক ঘটনার বড় আলামত।

ঝরনার ছেলে নিশ্চিত করেছেন ওই ডায়েরি তার মায়ের লেখা। ঘরকে কারাগারের সঙ্গে তুলনা করে ঝরনা ডায়েরিতে লিখেছেন, 'আমি কারও প্রিয়জন না। আমাকে নিয়ে কারও মাথাব্যথাও নেই। শরীরের দাবিদার আছে। আপন কেউ নেই আমার। আমি এক অন্ধকার জীবন নামক শিকলে বন্দি।' বারবার মরার চেয়ে একবারে নিজেকে শেষ করে দিতে চান বলেও ঝরনা উল্লেখ করেন ডায়েরির পাতায়।

ডায়েরির আরেক পাতায় নিজের কষ্ট বর্ণনা করে তিনি লিখেছেন, 'না বুঝে ভুল করেছি। সবই ভুল। তুমি এভাবে আমায় আর কষ্ট দিতে পারো না। আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। সব জেনে মামুন (মামুনুল হক) সাহেব যা করেছে, আমি শুধু তার টাকা ফেরত দিতে চাই।' আরেক পাতায় বলেছেন, 'আল্লাহ আমি আর পারছি না। আমার আগের সবকিছু দিয়ে দাও।'

কিশোর জামির বাবা শহীদুল ইসলাম খুলনার সোনাডাঙ্গা খালাসি মাদ্রাসার শিক্ষক। জামির আরেক ভাইয়ের নাম তামিম (১০)। শহীদুলের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোল্লাহাট। চাকরিসূত্রে তিনি খুলনায় বসবাস করেন। সেখানে দ্বিতীয় স্ত্রী ও প্রথম পক্ষের দুই সন্তান নিয়ে তার পরিবার।

এদিকে মামুনুল হক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রাখতেন- এমন আরেক নারীর খোঁজ পাওয়া গেছে। তার ব্যাপারে ছায়াতদন্ত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই নারীর ব্যাপারে তথ্য পায়। তার সঙ্গে মামুনুলের ফোনালাপের তথ্যও সমকালের হাতে এসেছে। সেখানে দু'জনের মধ্যে অনেক ইঙ্গিতপূর্ণ কথা রয়েছে।

মামুনুল হক তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বেড়াতে গিয়ে রয়্যাল রিসোর্টে অবস্থান নেন। এ খবরে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ওই ঘটনার পর মামুনুলের একাধিক টেলিফোন কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফোনালাপে তিনি কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে জনৈক 'শহীদ ভাইয়ের ওয়াইফ' হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর হেফাজতে ইসলামের এই নেতার নৈতিকতা নিয়েও ওঠে নানা প্রশ্ন।

মন্তব্য করুন