গত বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের 'আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকৃত মুসলমান না' এমন মন্তব্যকে পাগলের প্রলাপের সঙ্গে তুলনা করেছে ছাত্রলীগ।

নুরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, নুর মানসিক বিকারগ্রস্ততার জায়গা থেকে সব সময় উল্টোপাল্টা কথাবার্তা বলেন। এর দ্বারা তিনি ইতোমধ্যে ছাত্র সমাজের কাছে হাসিরপাত্র হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছেন। তার কথায় এখন আর কেউ গুরুত্ব দেয় না।

দেশের ধর্মীয় অনুভূতি ও রাজনীতি সম্পর্কে নুরের ‘বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই’ বলে মন্তব্য করে লেখক বলেন, আওয়ামী লীগবিরোধী হিসেবে নিজেকে প্রচার করার জন্য, তিনি এরকম পাগলের প্রলাপ ছড়ান। এসময় তিনি নুরের মানসিক সুস্থতা কামনা করেন।

গত বুধবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে ১ ঘণ্টা ১১ মিনিট বক্তব্য দেন নুর। সেখানে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের উগ্রবাদীরা আলেম উলামাদের নিয়ে যেভাবে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, তাদের চরিত্র হরণ করছে, এরা মুসলমান হতে পারে না।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সর্বত্র জনসমাগম বন্ধের পাশাপাশি মসজিদে জামাতে মুসল্লির সংখ্যা বেঁধে দেওয়ার যে নির্দেশনা সরকার দিয়েছে, তা অমান্য করার জন্যও সবাইকে আহ্বান জানান নুর।

হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ড সরকারের ‘চাল’ বলেও দাবি করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘জালিম’ আখ্যা দিয়ে নূর বলেন, এই জালিমের বিরুদ্ধে কথা, জনগণকে সংগঠিত করা এখন ফরজ হয়ে গেছে।

ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা নিজেদের মুসলমান দাবি করেন, অন্তত আওয়ামী লীগ কইরেন না।

তবে তার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নুর। তিনি বলেন, লাইভে আমি বলেছি, এই বিনা ভোটের মাফিয়া সরকার ভিন্নমতের উপর দমন-পীড়ন-চালিয়ে ক্ষমতায় আছে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মানুষ হত্যা করেছ, এমনকি এই পবিত্র রমজান মাসেও ইফতার বিতরণকালে ক্যাম্পাস থেকে আখতারকে  গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আলেম ওলামাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। এগুলো প্রকারান্তে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো। এজন্য আমি বলেছি আওয়ামী লীগের এই কর্মকাণ্ড কোনো মুসলমান সমর্থন করতে পারে না। কোনো বিবেকবান মানুষই সরকারের এই কর্মকাণ্ড সমর্থন করতে পারে না। এসব বলেছি আমি।

ছাত্রলীগের মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ভারতের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আছে। তাদের মধ্যে ভারতের এজেন্ট রয়েছে। গণতান্ত্রিক মতবাদকে যারা 'আবোল-তাবোল' বলে মন্তব্য করছে, তারা আসলে কোন মানসিকতার লোক তা বিবেচনা করা উচিত।