চলমান লকডাউনের মধ্যে বাইরে যাওয়ার জন্য অনেকেই যেন মুখিয়ে আছেন। নানা কৌশলে সবাই চেষ্টা করছেন ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য। এমনকি জাতীয় জরুরি সেবা '৯৯৯' নম্বরে ফোন করেও আবদার জানাচ্ছেন বাইরে যাওয়ার। লকডাউন শুরুর পর গত তিন দিনে এমন প্রচুর কল পেয়েছেন পুলিশ পরিচালিত এই কলসেন্টারের কর্মীরা। কেউ আত্মীয়ের বাসায় যেতে, কেউ বাড়ি রং করানোর মিস্ত্রির খোঁজে, আবার কেউ টয়লেট মেরামতের প্রয়োজনে বাইরে বের হতে চেয়েছেন।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, অনলাইনে আবেদন করে 'মুভমেন্ট পাস' নিয়ে বাইরে বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও অনেকেই ফোন করছেন ৯৯৯-এ। অদরকারি কারণ দেখিয়ে যেমন অনেকে বের হতে চাইছেন, তেমনি কারও জরুরি প্রয়োজনও রয়েছে। তাদের সবাইকে এ ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৯৯৯-এর ফোকাল পারসন (গণমাধ্যম) পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার সমকালকে বলেন, লকডাউন শুরুর আগে থেকেই এ ধরনের কল আসতে শুরু করেছে। এটাকে আমরা বলি ইনকোয়ারি কল। লকডাউন শুরুর পর এমন কলের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। সাধারণত দিনে ২১-২২ হাজার কল পাই আমরা। এখন তা ২৯ হাজার পেরিয়ে গেছে। আর এই বাড়তি কল মূলত বাইরে বের হওয়ার ব্যাপারে।
তিনি বলেন, অনেকেই না জানার কারণে বাইরে যাওয়ার অনুমতি পেতেও ফোন করেছেন। তবে তাদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে ১৩ দফা সরকারি নির্দেশনা। অর্থাৎ কারা বাইরে যেতে পারবেন, কাদের মুভমেন্ট পাসের প্রয়োজন নেই, কোন কাজগুলো জরুরি হিসেবে বিবেচিত হবে ইত্যাদি।
৯৯৯-এর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, জরুরি প্রয়োজন নয়, এমন অনেক কারণ দেখিয়েও লোকে বাইরে বের হতে চাইছেন। তারা অবশ্য নিজের প্রয়োজনকে অতি জরুরি বলে দাবি করছেন। যেমন একজন ফোন করে বলেছেন, আত্মীয়ের বাসায় যাওয়া খুব জরুরি। তাকে বলা হয়েছে, এটি জরুরি দরকারের মধ্যে পড়ে না। তখন তিনি জানিয়েছেন, তার আত্মীয় অসুস্থ। তবে এরপরও তাকে ঘর থেকে বের হতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কেউ আবার লকডাউনের 'ছুটি' কাজে লাগিয়ে বাড়ি রং করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ জন্য তার প্রয়োজন রং ও সংশ্নিষ্ট মিস্ত্রি-শ্রমিক। এ জন্য বাইরে যাওয়াকে তিনি জরুরি মনে করেছেন। তাকে সরকারের নির্দেশনা বুঝিয়ে বলা হয়েছে। অনেকে মুভমেন্ট পাস পেতে কী করতে হবে, সে ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনেকে চেষ্টা করেও মুভমেন্ট পাস পাননি উল্লেখ করে করণীয় জানতে চেয়েছেন। পেশাজীবীদের কেউ কেউ ফোন করে জিজ্ঞেস করেছেন, তাদের বের হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আছে কিনা। তাদের জানানো হয়েছে, বেশ কয়েকটি পেশার মানুষের বের হওয়ার জন্য কোনো পাসের দরকার নেই। তাদের পরিচয়পত্রই যথেষ্ট।
সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, লকডাউন সংক্রান্ত বাড়তি কলের জন্য কল সেন্টারের কর্মীদের কাজের চাপ কিছুটা বেড়ে গেছে। তবে তারা এর জন্য প্রস্তুত ছিলেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে সাধারণত এমনটা হয়ে তাকে। এর আগে গত বছর লকডাউনের সময়ও এ জাতীয় কল এসেছিল প্রচুর। তখন ত্রাণ সহায়তা চেয়েও অনেক কল এসেছিল। তবে এবার এখন পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা চেয়ে কেউ কল করেননি।

মন্তব্য করুন