বাঁশখালীতে নির্মাণাধানী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষের 'রহস্যজট' খুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সিসিটিভি ফুটেজ। ওই ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, বহিরাগতরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। বহিরাগতদের নিয়ে কিছু শ্রমিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে থাকা নয়টি সিমেন্ট মিকশ্চার ট্রাক, দুটি মোটরসাইকেল, একটি পিকআপ ও একটি মাইক্রোবাসে আগুন দেয়। 

কিন্তু শ্রমিকরা বলছেন, পুলিশ নিজেই গাড়িতে আগুন দিয়ে ঘটনার সূত্রপাত করেছে। পরে নির্বিচারে গুলি করেছে। পরস্পরবিরোধী এমন বক্তব্যের সত্যতা নিরূপণে বিদ্যুৎকেন্দ্রে থাকা সিসিটিভি ফুটেজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, 'ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও ও ছবিসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে তদন্ত কমিটি। আশা করছি ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে।'

জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, 'আমাদের কাছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আছে। তথ্যপ্রমাণ আমরা জোগাড় করছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।'

পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশ সুপার নেছার উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইলে থাকা ভিডিও ফুটেজ এবং স্থিরচিত্র সংগ্রহ করছি আমরা। সব কিছু বিচার-বিশ্নেষণ করেই আমরা প্রতিবেদন দেব।'

জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আক্তার বলেন, 'পুলিশ ও শ্রমিক পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে তাই দরকার ওইদিনের ভিডিও এবং ছবি। ইতোমধ্যে কিছু সিসিটিভি ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। প্রত্যক্ষদর্শীদেরও বক্তব্য নিচ্ছি। এমন ঘটনার যাতে ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেটি বিবেচনায় রেখে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।'

গত ১৭ এপ্রিল পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রাণ গেছে পাঁচজনের। ২০১৬ সালের এপ্রিলেও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছিলে গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের। এতে ছয়জন মারা গেলেও সেবার সিসিটিভি ফুটেজ ছিল না ঘটনাস্থলে। এ কারণে ৫৭ গ্রামবাসীকে আসামি করে পুলিশ মামলা করলেও সেটি প্রমাণ করা যায়নি আগেরবার। তাই ধামাচাপা পড়ে গেছে আগের দুই হত্যা মামলাও।

মন্তব্য করুন