রাজধানীর আবদুল্লাহপুরে হা-মীম গ্রুপের কর্মীদের বহনকারী স্টাফ বাসে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এতে হা-মীম গ্রুপের তিন কর্মীসহ চারজন আহত হয়েছেন। 

তারা হলেন- স্যাম্পল বিভাগের ডেভেলপমেন্ট স্টাফ বিল্লাল হোসেন, দাউদ খান, মো. মিলন এবং বাসচালকের সহকারী মো. নুরুদ্দিন। হা-মীম গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড থেকে তারা তেজগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ে ফিরছিলেন। আহতদের টঙ্গীর আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ হামলায় জড়িত পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীদের ধরতে পুলিশকে সহায়তা করেন পথচারীরাও। দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

আটকরা হলো- রাজধানীর উত্তরখানের তালতলা আটিপাড়ার জামা আক্তার ওরফে ঝর্ণা আক্তার, একই থানার পূর্ব চাঁনপাড়ার ফারুক আহমেদ, মাস্টারপাড়ার সাখাওয়াত হোসেন সাগর, দক্ষিণখানের ফরিদ মার্কেট এলাকার ওজিউল্লাহ খোকন ও টঙ্গীর এরশাদনগরের মো. বিপ্লব। পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী ঝর্ণা কথিত দৈনিক এই বাংলার স্টাফ রিপোর্টার, ফারুক সাপ্তাহিক উত্তরা বাণীর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, বিপ্লব ঢাকা টিভির ক্যামেরাপারসন, ওজিউল্লাহ ক্রাইম প্যাট্রোল বিডির প্রতিনিধি এবং একই প্রতিষ্ঠানের ইনভেস্টিগেটিভ করেসপন্ডেন্ট সাগর। এ ছাড়া সুমি চৌধুরী ও মো. ইফতেখার নামের তাদের দুই সহযোগী পলাতক রয়েছে। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, তারা সাংবাদিক পরিচয়ধারী দুর্বৃত্ত। ঘটনার সময় কথিত সাংবাদিকদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি নিয়ে চালক কৌশলে পালিয়ে যায়।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ সমকালকে বলেন, আটকরা সবাই ভুয়া সাংবাদিক। তাদের দৌরাত্ম্যে মানুষ অতিষ্ঠ। অনেকে তাদের মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছেন। এ ধরনের প্রতারকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাবে পুলিশ।

হামলায় হা-মীম গ্রুপের কর্মী বিল্লালের মাথা ফেটে যায়। ছবি: সমকাল

উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, আটকদের এ-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। সাংবাদিক পরিচয়ে তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গীর নিশাদনগর এলাকায় হা-মীম গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ কালেকশন থেকে কর্মীদের বহনকারী একটি বাস ঢাকার দিকে আসছিল। বাসটি আবদুল্লাহপুর ব্রিজ পার হওয়ার পর একটি মাইক্রোবাস পেছন থেকে বিকট শব্দে হর্ন দিয়ে ওভারটেক করতে চাইছিল। সেটিকে ওভারটেক করার মতো জায়গা দিতে সামান্য দেরি হয় বাসচালকের। এরপর মাইক্রোবাসটি বেপরোয়া গতিতে বাসের সামনে চলে আসে এবং রাস্তার মাঝখানে থেমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তখন গাড়ি থেকে নেমে আসা কয়েকজন নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হম্বিতম্বি শুরু করে। তারা বাসের হেলপারকে বেদম মারধর করে। এ সময় বাসে থাকা হা-মীম গ্রুপের কর্মীরা নেমে বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়।

হা-মীম গ্রুপের টঙ্গী জোনের হেড অব অ্যাডমিন আবু রাসেল সমকালকে বলেন, বিনা কারণে আমাদের কর্মীদের বেধড়ক পেটানো হয়েছে। এতে বিল্লাল হোসেন নামের একজনের মাথা ফেটে গেছে। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তারা কর্মীদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ কেড়ে নিয়েছে। এসব দেখে আশপাশের লোকজন এসে তাদের ঘিরে ধরে। হামলাকারীদের মধ্যে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ঝর্ণা আক্তার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে তার সঙ্গের লোকজনকে পরামর্শ দেয়। এর মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে চলে আসে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

আহত বিল্লাল হোসেন সমকালকে বলেন, প্রথমে হামলাকারীদের একজন এসে ঘুসি দিয়ে বাসের জানালার কাচ ভেঙে ফেলে। আমাদের কর্মীরা বাস থেকে নামতে শুরু করলে তাদেরও মারধর করা হয়। মারধরে আমার মাথা ফেটে যায়। তারা সাংবাদিক পরিচয় দিলে আমরা জানাই, আমাদেরও দু'টি মিডিয়া হাউস আছে। কেন অহেতুক এমন মারমুখী আচরণ করছেন? তারা আমাদের কথা না শুনে মারধর করতে থাকে। কারও কারও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।

উত্তরা পূর্ব থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নূর আলম মাসুম সমকালকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে সেখানে দুই-তিনশ লোকের ভিড় দেখতে পায়। মারধরের ঘটনায় আশপাশের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হামলাকারীদের ঘিরে ধরেছিল। পুলিশ অভিযুক্ত চার পুরুষ ও এক নারীকে আটক করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিষয় : হা-মীম গ্রুপের বাসে হামলা হা-মীম গ্রুপ

মন্তব্য করুন