এ সরকার জনগণের নয়, সামান্যতম সমালোচনাও সহ্য করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা নামে কালো আইনের মাধ্যমে জনগণের বাক-স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জনরোষ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে এই আইনটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ধারাবাহিক নিষ্ঠুর জুলুম করছে সরকার।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। খুলনায় সাংবাদিক এবং ফেনী ও নোয়াখালীর চাটখিলে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এ বিবৃতি দেন। এতে তিনি গ্রেপ্তারদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধসহ নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, জনগণকে বন্দি রেখে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আগের রাতে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা জবরদখলকারী সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো নিবর্তনমূলক কালো আইন ব্যবহারের মাধ্যমে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। অনৈতিক সরকারের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, দমন-পীড়ন, গণতন্ত্র ও গণবিরোধী কার্যকলাপ এবং ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতি, লুটপাট, অনৈতিকতা, অনিয়ম, বেপরোয়া আচরণ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে লেখক, সাংবাদিক, কবি, কার্টুনিস্ট, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও তাদের ওপর ধারাবাহিক নিষ্ঠুর জুলুম চলছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের পর এখন এই কালো আইন ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে মানুষ নিজেদের কষ্ট ও ক্ষোভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যক্ত করতে না পারে। যারা স্বাধীনভাবে গণমাধ্যমে নিজের মত প্রকাশের চেষ্টা করছে কিংবা বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী যারা সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে, তাদের জীবনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিষ্ঠুর কালাকানুনের মাধ্যমে নেমে আসছে ভয়ঙ্কর দুর্বিষহ পরিণতি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় খুলনার মেয়র ও তার স্বজনদের দুর্নীতি, অনৈতিক ও বেআইনি অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জন্য খুলনা এনটিভির ব্যুরো প্রধান সিনিয়র সাংবাদিক আবু তৈয়ব মুন্সী ছাড়াও ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দোলনসহ বিভিন্ন জায়গায় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই আইনে মামলা ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আওয়ামী সরকারের এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনা চলমান ভয়াবহ দুঃশাসনের খণ্ড চিত্র মাত্র।

অপর এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানীটোলায় কেমিকেল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।