গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, করোনা আক্রান্তের প্রাথমিক চিকিৎসা বাড়িতেই সম্ভব। এজন্য একটি থার্মোমিটার, একটি পালস অক্সিমিটার, ব্লাডপ্রেশার পরিমাপের মেশিন এবং কিছু ওষুধ প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ করোনা চিকিৎসাসেবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। এ সময় অনলাইনে যোগ দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, করোনার ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবার উদ্যোগটি সকলকে দেখানোর জন্য যে, কত সহজে অল্প খরচে বাসায় বসেই করোনার প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া যায়। সম্মিলিতভাবে এই উদ্যোগ না নিলে এটি সফল করা সম্ভব নয়। সরকারকেও সহযোগিতা করতে হবে। দিল্লিতেও করোনা রোগীদের জরুরি সেবা দিতে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাড়িতে করোনার প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো আমরা বিনা পয়সায় সরবরাহ করব। কেবল পরীক্ষার খরচটা তাকে দিতে হবে।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও ধনীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন খরচে আইসিইউর ব্যবস্থা আছে। আইসিইউর সুবিধাসম্পন্ন ৫০ শয্যার একটি করোনা ইউনিট আছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের করোনা রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। আমরা সুশিক্ষিত একটি দল নিয়ে যদি মানুষের দরজায় যেতে পারি সেটা অনেক সুফল বয়ে আনবে। ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারলে এই সেবার মাধ্যমে মানুষ অনেক উপকৃত হবে। এটি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না বলেন, যা যা বলা হচ্ছে সেগুলো মেনে চলা দরকার। জানুয়ারিতে দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ঢুকেছে; কিন্তু সেটা আমাদের জানানো হয়নি, শুধু দুটি অনুষ্ঠান করার জন্য। এটা অত্যন্ত নির্দয় আচরণ।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ করোনা চিকিৎসাসেবার টিম লিডার অধ্যাপক ডা. শওকত আরমান, সোস্যাল সেক্টর ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী পরিচালক ডা. এএম জাকির হোসাইন, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক নাসিমা ইয়াসমিন প্রমুখ।