কাগজে কলমে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ চললেও রোববার ইফতারের আগে রাজধানীর অধিকাংশ সড়কে ছিল যানজট। বাস ছাড়া আর সব ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায় প্রধান প্রধান সড়কে। লকডাউনের শুরুর দিনগুলোতে পথে পথে পুলিশের যে চেকপোস্ট ছিল, তা আর দেখা যায়নি। যানবাহন ও পথচারীর চলাচল নিয়ন্ত্রণে তল্লাশিও চোখে পড়েনি।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় দেখা যায়, সাতরাস্তা থেকে মহাখালী পর্যন্ত গাড়ির দীর্ঘ সারি। তেজগাঁও ইউলুপ এলাকায় দিনভরই ছিল গাড়ির চাপ। মগবাজার ফ্লাইওভারের ওপরও যানজটের দেখা পাওয়া যায়।

এর আগে দুপুরে নিউমার্কেট ও এলিফ্যান্ট রোডেও গাড়ির সারি দেখা যায়। কেনাকাটা করতে আসা মানুষের ‘মুভমেন্ট পাস’ লাগবে বলে যে নির্দেশনা ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল, তা কার্যকরে কাউকে দেখা যায়নি।

গত ১৪ এপ্রিল সর্বাত্মবক লকডাউন শুরুর পর কয়েকদিন কাঁটাবন ও শাহবাগ মোড়েও পুলিশের চেকপোস্ট বসেছিল যান ও পথচারী নিয়ন্ত্রণে। রোববার দুপুরে ওই দুই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চেকপোস্ট সড়ক থেকে সরিয়ে ফুটপাথে রাখা হয়েছে। নেই কোনো পুলিশ সদস্যও। খালি পড়ে আছে চেকপোস্টটি।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কারওয়ান বাজার মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, গাড়ির চাপ স্বাভাবিক সময়ের দুপুরের মতোই। ‘শেরাটন মোড়ে’ ছিল স্বাভাবিক সময়ের যানজট। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সড়কে বাড়ছে যানবাহন। মার্কেট, শপিংমল খুলে যাওয়ায় পথচারীও বেড়েছে। লকডাউন শুরুর পর আট দশদিন ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের দরকার পড়েনি। গত কয়েকদিন ধরে আবার সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণে জনবল লাগছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে সিগন্যাল দেখাতে হচ্ছে। রাজধানীর ধানমন্ডি, কাকরাইল, মগবাজার, মালিবাগ ও মৌচাক এলাকা ঘুরেও একই দৃশ্য দেখা গেছে।

লকডাউনের কারণে বাস না চললেও প্রাইভেট কার, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, রিকশাসহ সব ধরনের যানবাহনকেই পথে দেখা গেছে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তেজগাঁও এলাকায় দেখা যায়, প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারি। একই রকম সারি ছিল সিএনজি অটোরিকশা ও মোটর সাইকেলেরও।

নাবিস্কো মোড়ে কথা হয় অটোরিকশা চালক মো. হালিমের সঙ্গে। তিনি জানালেন, লকডাউনের শুরুর দিকে গাড়ি নিয়ে বের হতে পারেননি। রাস্তায় বেরোলেই পুলিশ ধরত। এখন আর চলাচলে বাধা নেই। গত তিন চারদিন ধরেই যাত্রী পাচ্ছেন ভালোই। দিনে সাত আটশ’ টাকা ভাড়া পাচ্ছেন। তবে অটোরিকশা মালিককে আমদানি জমা দেওয়ার পর নিজের তেমন একটা কিছু থাকছে না।

এদিকে গণপরিবহনের বাস না থাকলেও বিভিন্ন অফিসের কর্মী পরিবহনে অনেক বাস চলতে দেখা গেছে। পন্যবাহী গাড়ি চলাচলও বেড়েছে।

তিব্বত মোড়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট দেব দুলাল সাহা জানান, দুপুরের দিকে রাস্তা কিছুটা ফাঁকা থাকে। সকালে ও বিকেলে গাড়ির চাপ অনেকটাই সাধারণ সময়ের মতো।

বিষয় : সর্বাত্মক লকডাউন

মন্তব্য করুন