গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, মানুষের অধিকারে কথা বলা যদি অপরাধ হয় আমিও সেই একই অপরাধে অপরাধী। আমাকেও গ্রেপ্তার করুন। 

তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে আটক ছাত্ররা কী কাউকে খুন করেছে, বলাৎকার করেছে, চাঁদাবাজি বা ছিনতাই করেছে? তারা মানুষের অধিকারের কথা বলেছে, যৌক্তিক প্রতিবাদ করেছে। ১৯৫২ সালে ছাত্ররা অধিকারের কথা বলেছে বলেই আমরা ভাষার অধিকার পেয়েছি। দেশ স্বাধীন হয়েছে। অনেক স্বৈরশাসক সরকারের পতন হয়েছে। যারাই এই কথা বলার অধিকারের সংগ্রামের কথা বলেছে তারাই পরবর্তীতে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে পেরেছে।

সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আটক ছাত্রদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব বলেন।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, খুবই দুঃখ লাগে একটা সরকার কত দুর্বল হলে কিছু ছাত্রের ভয়ে কাঁপতে হয়। তাদের গ্রেপ্তার করেছে, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। রিমান্ড খুবই ফালতু জিনিস। এখানে নির্যাতন করা ছাড়া কোন কাজ নেই। যারা প্রশ্ন করে তাদের নিজেদেরও কোন ধারনায় নেই, দেশে কী হচ্ছে? আমরা কী চাই, কেন চাই তার যৌক্তিকতা আছে কিনা?

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কী করছেন? ৫১ জনের মধ্যে পাঁচজন কাশিমপুর কারাগারে বন্ধুদের দেখতে গিয়েছিল। সেখানে তাদের আটক করা হয়। এই সরকার পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে ভয় এবং ত্রাস সৃষ্টি করতে চায়।ছাত্রদের আজকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এদেশের ছাত্র সমাজ এর জবাব দিবে। এমন অন্যায় চলতে থাকলে আপনাদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত অতি দ্রুত উৎখাত হবে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, মোদির আগমনের প্রতিবাদ জানিয়েছি। মতিঝিলে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা করেছে, ছাত্রদের আটক করেছে। গ্রেপ্তার করে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা বাইরে আছে তাদের আতঙ্কে রাখা হচ্ছে, ভয়ভীতি সঞ্চার করা হচ্ছে। যেসব পুলিশ ছাত্র নির্যাতনের নেতৃত্ব দিয়েছে, সরকার তাদের নানাভাবে পুরস্কৃত করছে।

তিনি বলেন, ছাত্রদের পরিবারসহ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঈদের আগে গ্রেপ্তারদের মুক্তি না দিলে আমাদের ঈদ হবে গণভবনের সামনে।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, সুজনের বদিউল আলম মজুমদার, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান প্রমুখ।

পরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কারাবন্দী ছাত্রদের মুক্তির ব্যপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করেন। ভিসি তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এদিকে বিকালে অপর এক অনুষ্ঠানে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্ধেক মানুষের খাবার নেই। গণপরিবহণ বন্ধ অথচ প্রাইভেট গাড়ি চলছে। দেশের দরিদ্র মানুষ না খেয়ে আছে। সেদিকে কারো নজর নেই। রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি আয়োজিত ত্রাণ সহায়তা কর্মসূচির অধীনে কর্মহীন মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন।

এসময়ে জেএসডি কার্যকরী সভাপতি সা ক ম আনিসুর রহমান খান কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক জনাব শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক সামছুল আলম নিক্সন, এম এ ইউসুফ, আবুল মোবারক, হাজী আখতার হোসেন ভুইয়া, মোশাররফ হোসেন, আবদুল মান্নান ভুইয়া,মুশফিকের রহমান সাজু, ইসমাইল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।