ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানিক দল গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে  হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থক এ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হেফাজতে ইসলামের সদ্য পদত্যাগী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী রয়েছেন। তাকে সদর মডেল থানা পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর থেকে মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে। হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ৪২৪ জন। 

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ জানান,  হেফাজতের তাণ্ডবের স্থির ও ভিডিওচিত্র দেখে তাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৫৬টি। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৪৯টি, আশুগঞ্জ থানায় ৪টি, সরাইল থানায় ২টি এবং আখাউড়া রেলওয়ে থানায় ১টি। এসব মামলায় ৪১৪ জন এজাহারনামীয় আসামি ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে মোট ৪২৪ জন।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে দিয়ে হেফাজতের ব্যানারে মাদ্রাসার ছাত্ররা গত ২৬ মার্চ বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ওইদিন বিক্ষোভকারীরা বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে হামলা চালিয়ে জাতির জনকের ম্যুরাল ভাংচুরসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এছাড়াও গত ২৮ মার্চ হরতাল চলাকালে হরতাল সমর্থকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি প্রায় অর্ধশতাধিক স্থাপনা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ধবংসযজ্ঞে পরিণত করে।

মন্তব্য করুন