ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আলোচিত মাসুদুর রহমান শুভ্র হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে ২৪১ পৃষ্ঠার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়।

বুধবার বিকেলে ময়মনসিংহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই অভিযোগপত্র দেয় মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর রাতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুর রহমান শুভ্রকে। তিনি পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হতে এলাকায় প্রচারে ছিলেন। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন। পূর্বশত্রুতা ও মেয়র প্রার্থী হওয়ায় বিরোধকে কেন্দ্র করে শুভ্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবিদুর রহমান প্রান্ত বাদী হয়ে গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ১৯ অক্টোবর থানায় একটি মামলা করেন। ২২ অক্টোবর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ। ঘটনার ৬ মাস ১৯ দিনের মাথায় বুধবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে এজাহারভুক্ত ১৪ জনের নামের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া আরও পাঁচজনের নাম সংযুক্ত হয়েছে। 

এতে গৌরীপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি (বহিষ্কারের প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠানো) এজাহারভুক্ত ১৪ জন হলেন সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, তার ভাই সৈয়দ তৌফিকুল ইসলাম, সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির একাংশের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মইলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (বরখাস্ত) রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ, তার ছোট ভাই মাসুদ পারভেজ কার্জন, গৌরীপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমেদ রেজা, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোজাম্মেল হক, রিয়াদের খালাতো ভাই খাইরুল ইসলাম, রিফাত, মো. আবু হানিফা, জাহাঙ্গীর আলম, মজিবুর রহমান, শরীয়তউল্লাহ ওরফে সুমন ও রাসেল মিয়া। তদন্তে পাওয়া পাঁচজন হলেন- কামাল মিয়া, মো. মাঈন উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম নাঈম, রুহুল আমিন ও শাহজাহান মিয়া। ১৯ আসামির মধ্যে ৯ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করছেন। পৌর মেয়রসহ তিন ভাই রয়েছেন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে। বাকিরা রয়েছেন পলাতক।

পুলিশ জানায়, আসামি রিয়াদুজ্জামান রিয়াদের সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে পূর্ব থেকেই বিরোধ ছিল শুভ্রর। দু'পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার রেশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পৌর মেয়র পদে প্রার্থী হওয়া ছিল হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ বলেন, প্রতিহিংসা, পূর্বশত্রুতা ও মেয়র প্রার্থী হওয়া এই তিন কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন শুভ্র। প্রায় ৬ মাস তদন্ত শেষে ২৪১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।