নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে এক যুবককে হত্যা করেছে মাদকসেবীরা। বুধবার রাত ১০ টার দিকে উপজেলার ১০ নং আমিশাপাড়া ইউনিয়নের সাতঘরিয়া গ্রামের লদের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই যুবকের নাম মাহফুজুর রহমান (২২)। তিনি সাতঘরিয়া গ্রামের শহীদ উল্যাহর ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। এ ঘটনায় নিহত যুবকের বাবা বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকালে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত যুবকের মামা মাকসুদুর রহমান জানান, উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের সাতঘরিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের বখাটে ছেলে ইসতিয়াক হোসেন (২১) ও পার্শ্ববর্তী নাওড়ী গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে আরমান হোসেনসহ ৬-৭ জন যুবক প্রতিদিন সাতঘরিয়া গ্রামে সন্ধ্যার পর মাদক সেবনের আসর বসায়। কয়েকদিন আগে মাহফুজুর রহমান ইসতিয়াক ও আরমানকে গ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেয়। পরে বিষয়টি মাহফুজ এলাকার মুরুব্বিদেরকে জানালে মাদকসেবীদের ওপর এলাকাবাসী চাপ সৃষ্টি করে। এতে করে মাদকসেবীরা মাহফুজুর রহমানের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে মাহফুজুর স্থানীয় কাজিরখীল বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে লদের বাড়ির রাস্তারমুখে পৌঁছালে তার পথ রোধ করে ইসতিয়াক ও আরমানের নেতৃত্বে ৪-৫ জন যুবক তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে। এ সময় চিৎকার শুনে সাতঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন ও তার ছেলে শিহাব উদ্দিন ঘর থেকে বের হয়ে মাহফুজুর রহমানকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। তাদেরকে দেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় মাহফুজুরকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১০ টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় আমিশাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন বলেন, মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবীরা ছুরিকাঘাত করে এক যুবককে খুন করেছে। এরা সমাজের অপরাধী।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় নিহত যুবকের বাবা বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয়ে ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।