গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ফলাফলকে দারুণ হতাশাজনক ও অপ্রত্যাশিত বলে ভাবছেন দলের নেতারা। দলের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী শুক্রবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি এ বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, কী ঘটেছে তা পর্যালোচনা করা হবে। তবে আমাদের সবাইকে দলের সদস্য হিসেবে এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে কাজ করতে হবে। খবর এনডিটিভির।

কংগ্রেসের পার্লামেন্টারি কমিটির সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‌‘দুর্ভাগ্যের বিষয়, প্রতিটি রাজ্যেই আমরা খুব খারাপ ফল করেছি। এটা কখনোই আশা করিনি। দলের ওয়ার্কিং কমিটি ফল পর্যালোচনা করে দেখেছে।' এই বৈঠকে সোনিয়া পশ্চিম বঙ্গে বিজয়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানান।

সদ্যসমাপ্ত বিধান সভা নির্বাচনের প্রচারণার সময় দৈন্যদশা দেখা গেছে কংগ্রেসের। বিজেপি ও তৃণমূল পশ্চিম বঙ্গে যেভাবে নিজেদের পক্ষে তুমুল প্রচারণায় নেমেছিল, সে ধরনের প্রচারণা দেখা যায়নি কংগ্রেসের তরফ থেকে। এক কথায় কংগ্রেস প্রচারণার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে ছিল।

পশ্চিমবঙ্গে বামদের সঙ্গে জোট বেঁধেও সুবেধা করতে পারেনি কংগ্রেস। পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়েছে। ওদিকে তৃণমূল পেয়েছে ২১৩ ও বিজেপি ৭৭ আসন। আসামে ৯৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছে ২৯ আসন। আর বিজেপি ৭৫ আসনের মধ্যে পেয়েছে ৫০ আসন।

কেরালায় অবশ্য কংগ্রেস একেবারে হতাশ হয়নি। ২০১৬ সালে ৪১ আসন পেয়েছিল তারা। এবার এক সিট কম পেয়েছে। আর বামফ্রন্ট ৯৯ আসন পেয়েছে সরকার গঠন করেছে। এই রাজ্যে শূন্যহাতে ঘরে ফিরেছে কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি।

অপরদিকে তামিলনাড়ুতে ডিএমকে’র নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে থেকে নির্বাচনে নামে কংগ্রেস। নিজেদের জন্য নির্ধারিত ২৫ আসনের মধ্যে ১৮ রাজ্যে জয় পায় কংগ্রেস।  

এর আগে গত বছর অক্টোবর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত বিহার বিধানসভা  নির্বাচনেও খুব একটা ভাল করেনি কংগ্রেস। ৭০টি আসনের  মধ্যে পেয়েছে মাত্র ১৯টি।

কংগ্রেসের এই ক্রমঅনবমন চলছে বেশ কয়েক বছের ধরে। গত বছর সিনিয়র নেতা গোলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা ও কপিল সিবালের মতো নেতারা এদিকে দলের দৃষ্টি আকরষণ করে দলকে এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বিষয় : বিধানসভা নির্বাচন কংগ্রেস সোনিয়া গান্ধী

মন্তব্য করুন