বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, লোকবলের ঘাটতি থাকলে সংশ্নিষ্ট বিভাগ বা দপ্তর উপাচার্যের কাছে চাহিদাপত্র দেবে। তার অনুমোদন পেলে বিভাগ বা দপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে; পরে লিখিত পরীক্ষা নেবে। তাতে উত্তীর্ণরা মৌখিক পরীক্ষা দেবেন। তারপর উপাচার্য নিয়োগ দেবেন এবং সিন্ডিকেটে অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি পদে যোগদান করবেন। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায় নেওয়া উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহান তার শেষ কর্মদিবসে যে ১৪১ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন, সেখানে কোনো বিধানই মানা হয়নি। কোনো বিভাগ বা দপ্তর থেকে চাহিদা ছিল না, কিন্তু সেসব বিভাগ ও দপ্তরে নিয়োগ হয়ে গেছে। বিজ্ঞপ্তি হয়নি, লিখিত পরীক্ষা হয়নি, এমনকি মৌখিক পরীক্ষাও হয়নি।

তবে যদি জরুরি ভিত্তিতে লোকবলের প্রয়োজন পড়ে এবং সে ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হয়, তখন উপাচার্য অস্থায়ী (অ্যাডহক) নিয়োগ দিতে পারবেন। তবে সে রকম নিয়োগ দিতেও মৌখিক পরীক্ষা নিতে হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক রেজিস্ট্রার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিকে এবং ২০২০ সালের শুরুর দিকে সেকশন অফিসার, উচ্চমান সহকারী, নিম্নমান সহকারীসহ শতাধিক পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে কয়েকটি পদের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। কয়েকটি পদে নিয়োগ দিলেও করোনা মহামারির কারণে অনেক পদের নিয়োগ আটকে যায়। সেসব পদের নিয়োগ না দিয়েই উপাচার্য এম আবদুস সোবহান ১৪১ জনকে অস্থায়ী নিয়োগ দিয়েছেন। শনিবার অধ্যাপক সোবহান দাবি করেন, নিয়োগ না হওয়া সেসব পদের বিপরীতেই তিনি নিয়োগ দিয়েছেন।

গত ৫ মে অধ্যাপক আবদুস সোবহান তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ১৪১ জনকে নিয়োগ দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এ নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিশাল এই নিয়োগে স্থান পেয়েছেন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সাংবাদিক নেতা। পাশাপাশি উপাচার্যের চুলকাটা নাপিত, তার ব্যক্তিগত ফার্নিচার তৈরির মিস্ত্রি, এমনকি তার বাসায় যিনি মাংস দিয়ে যেতেন তার সন্তানকেও চাকরি দিয়ে গেছেন উপাচার্য। চাকরি পেয়েছেন তাকে হজে সহযোগিতা করা ব্যক্তিও।

এদিকে, এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠন করা চার সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। শনিবার সকালেই ক্যাম্পাসে যান কমিটির সদস্যরা। তারা একে একে সংশ্নিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেন। সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক সোবহানও উপস্থিত হয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

তদন্ত দলকে নেতৃত্ব দেন কমিটির আহ্বায়ক ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর। তার সঙ্গে ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. জাকির হোসেন আখন্দ ও ইউজিসির পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান। তারা ক্যাম্পাসে ঢুকেই উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। এরপর একে একে সবার সাক্ষাৎকার নেন। তারা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে নিয়োগকাণ্ডে সহযোগিতাকারী তিন সহকারী ও উপ-রেজিস্ট্র্রার এবং পরে রেজিস্ট্র্রারের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর বিদায় নেওয়া উপাচার্যের জামাতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার পর শিক্ষক নিয়োগ পাওয়া বিভাগগুলোর সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ ছাড়া 'দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ'-এর মুখপাত্র অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম টিপুর নেতৃত্বে সাক্ষাৎকার দিতে আসে একটি প্রতিনিধি দল। পরে অধ্যাপক টিপু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে দুই বছর ধরে আন্দোলন করছি। কমিটি আমাদের কাছে যা যা তথ্য চেয়েছে, সেভাবে সহায়তা করেছি।

'মানবিক' নিয়োগ: বিকেল ৩টায় আসেন অধ্যাপক আবদুস সোবহান। এক ঘণ্টার বেশি সময় তিনি তদন্ত কমিটির মুখোমুখি ছিলেন। পরে বের হয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে করতে দুই বছর আগে এই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। হঠাৎ নিয়োগে স্থগিতাদেশ আসে। এই নিয়োগ না হলে স্বাভাবিক কাজগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছেলেরাও নিয়োগ দাবি করে আসছিল। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়োগ দিয়েছি। 'আমার কাছে মনে হয়, তাদের একটা চাকরি দরকার, তাই দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেছে তারা কি একটা তৃতীয় শ্রেণির চাকরি পেতে পারে না? আমি ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মানুষকে চাকরি দিয়েছি,' বলেন সদ্য বিদায় নেওয়া উপাচার্য।

তিনি আরও বলেন, 'অধ্যাদেশে উপাচার্যকে অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া আছে। নিয়োগ অবৈধ হবে কেন? নিয়োগ অবৈধ হতে হলে আগে আইন সংশোধন করতে হবে।' নিয়োগ বাতিল হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ' নিয়োগ কে বাতিল করবে? সরকার? এমনটি হয়তো করবে না। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী উপাচার্যের ক্ষমতায় চাকরি দেওয়া হয়েছে। এর আগেও বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় ৫৪৪ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এমন নিয়োগ আরও হয়েছে; কিন্তু সেগুলো বাতিল হয়নি।'

নিয়োগ শতভাগ অবৈধ: তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাতের পর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, 'সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই এই নিয়োগ শতভাগ অবৈধ। সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিল সেজন্য আমি এতে স্বাক্ষর করিনি। উপাচার্যের নির্বাহী আদেশে আরেকজন স্বাক্ষর করেছেন।'

নিয়োগকাণ্ডে সহযোগিতাকারী সহকারী রেজিস্ট্র্রার মামুন উর রশীদ বলেন, 'আমি উপাচার্যের আদেশে কাজ করেছি। তিনি আদেশ করেছেন তাই কাজ করেছি। তদন্ত কমিটি ডেকেছে, আমার বক্তব্য তুলে ধরেছি তাদের সামনে।'

তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, 'মন্ত্রণালয় এটিকে অবৈধ নিয়োগ উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি করে দিয়েছে। নিয়োগের সঙ্গে যারা জড়িত আজকে সকলের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাত কর্মদিবস সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই আমরা প্রতিবেদন জমা দেব।'

সর্বোচ্চ ক্ষমতার ব্যবহার করেছেন উপাচার্য: অধ্যাপক আবদুস সোবহান শেষ কর্মদিবসে নিয়োগ দিতে তার ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সালাম নিয়োগপত্রে সই না করায় উপ-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলীকে সই করার অনুমতি দেন। তার স্বাক্ষরেই নিয়োগ হয়েছে। ইউসুফ আলীর ছেলে নাহিদ পারভেজও সংস্থাপন শাখায় নিম্নমান সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপাচার্য অধ্যাপক সোবহান রেজিস্ট্রারকে সই করতে বলেন। কিন্তু রেজিস্ট্রার তাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে উপ-রেজিস্ট্রারকে দিয়ে সই করানো হয়।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্র্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, 'আমি উপাচার্যকে পরিষ্কার জানিয়ে দেই, এতে সই করব না। সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। তার লোকজন আমাকে চাপ দিচ্ছিল, তাই বাধ্য হয়ে আত্মগোপনে চলে যাই।'

বৃহস্পতিবার যে ১৪১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ৯ জন শিক্ষক, ২৩ জন কর্মকর্তা, ৮৫ জন নিম্নমান সহকারী ও ২৪ জন সহায়ক কর্মচারী রয়েছেন। তাদের নিয়োগ আদেশের তালিকায় ও নিয়োগপত্রে তারিখ রয়েছে ৫ মে। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার শিক্ষক-কর্মকর্তা ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সাংবাদিক, শিক্ষক-কর্মকর্তার পরিবার এবং উপাচার্যের ঘনিষ্ঠরা রয়েছেন।

নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে একজন সহযোগী অধ্যাপক, আটজন প্রভাষক, শরীরচর্চার শিক্ষক পদে দু'জন এবং আবাসিক শিক্ষিকা পদে পাঁচজন রয়েছেন। তবে শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সভা কিংবা বিভাগের চাহিদা ছিল না বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় সভাপতিরা।

সংগীত বিভাগের সভাপতি দীনবন্ধু পাল সমকালকে বলেন, 'শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্ল্যানিং কমিটি চাহিদা পাঠায়নি। তারপরও নিয়োগ হয়েছে শুনলাম।'

নিয়োগপত্রের তালিকা থেকে জানা যায়, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অনীক মাহমুদের ছেলে ঋত্বিক মাহমুদ সংগীত বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্রর ছেলে ইন্দ্রনীল মিশ্র। ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক খাইরুল ইসলামের স্ত্রী সাবিহা ইয়াসমিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেন্টার অব এপিলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক (আইটি) হিসেবে। ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিভাগের অধ্যাপক শেরেজ্জামানের আত্মীয় মো. মনিরুজ্জামানকে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন মুনের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে মন্নুজান হলে সহকারী আবাসিক শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে শরীরচর্চার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরবি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এম মুস্তাফিজুর রহমান নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরি করেন। উপাচার্য যখন হজে গিয়েছিলেন, তখন তার দলের দলনেতা ছিলেন তিনি।

ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিভাগের প্রভাষক পদে শাহরিয়ার মাহবুবকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদের জামাতা। শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকীর স্ত্রী। কলেজ পরিদর্শক ও অধ্যাপক আবদুল গণির স্ত্রী ফারহানা একরাম নিয়োগ পেয়েছেন তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক শিক্ষিকা হিসেবে। সহকারী আবাসিক শিক্ষিকা হিসেবে রহমতুন্নেছা হলে নিয়োগ পেয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন রিয়াজির স্ত্রী বুরুজ ই জোবাইরা।

দলবল নিয়ে হাজির অধ্যাপক সোবহান: তদন্ত কমিটির সদস্যদের সামনে হাজির হওয়ার সময় অধ্যাপক আবদুস সোবহানের সঙ্গে ছাত্রলীগের চাকরি পাওয়া নেতাকর্মী ও তাদের সহযোগীরা উপস্থিত হন। উপাচার্য তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তারা বাইরে অপেক্ষা করেন। পরে অধ্যাপক সোবহান বের হতেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন, 'সোবহান স্যার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই, সোবহান স্যারের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।'

এ বিষয়ে নিয়োগ পাওয়া ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক ফারদিন বলেন, 'বিদায়ী উপাচার্যকে নিয়ে বিরোধীরা কেউ যেন কোনো কটূক্তি না করতে পারে, সেজন্য তাকে নিরাপত্তা দিতে এসেছি আমরা।'

বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা বলেন, 'স্যার আমাদের চাকরি দিয়ে গেছেন। এ জন্য নিয়োগবিরোধী শিক্ষকরা স্যারের ওপর ক্ষুব্ধ। স্যারকে কেউ যেন কিছু বলতে না পারেন, সেজন্য আমরা এসেছি।'

অবশ্য অধ্যাপক সোবহান আসার সময় ১০-১২ পুলিশকে প্রহরায় দেখা যায়।

ছাত্রলীগের যারা নিয়োগ পেলেন : নিয়োগ পাওয়া ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের তালিকা তৈরি করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাওয়া নেতারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আতিকুর রহমান সুমন, টগর মো. সালেহ, মাসুদ রানা, ইলিয়াস হোসেন, সাদেকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ডিল, ফিরোজ মাহমুদ, মাসুদ রায়হান, সাবেক উপক্রীড়া সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন, রাবি শাখার সহসভাপতি মাহফুজ আল আমিন, তৌহিদ মোর্শেদ, সারওয়ার হোসেন, সুরঞ্জিত কুমার বৃত্ত, রাসেল হোসেন, ফারুক হোসেন, রাবি শাখা ছাত্রলীগ সদস্য বোরহান উদ্দিন, এসএম হলের যুগ্ম সম্পাদক আবু জাফর, শাখা ছাত্রলীগের উপ-অর্থ সম্পাদক কামরুন নাহার কেয়া, সাবেক সহসভাপতি সোনিয়া, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মাসুদ রানা, যুগ্ম সম্পাদক তাসকিন পারভেজ শাতিল, আরিফুল ইসলাম রানা, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার হোসেন, রাবি শাখা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান মর্তুজা, মতিহার হল ছাত্রলীগ নেতা শামীম হোসেন, জিয়া হল ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আরিফুজ্জামান, ছাত্রলীগ কর্মী রোকসানা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম বাবু, জেলা ছাত্রলীগের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সোনিয়া তাসনিম, রাজপাড়া থানা ছাত্রলীগ নেতা ইদ্রিস আলম, ইয়ামিন, রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলিমুল হাসান, রাবি ছাত্রলীগ নেতা অনিক মাহমুদ বনি, নবাব আলী, সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্রলীগ সভাপতি রকিবুল ইসলাম জয়, ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান, রেজা কিবরিয়া, মোশারফ হোসেন।

এ ছাড়া ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে রয়েছে রাকিবুল ইসলাম, আশরাফুল আলম, রাশেদুল হাসান, মাসুদ আল শামীম, নাহিদ পারভেজ, আবদুর রহমান, তৌফিকুর রহমান, সুব্রত কুমার দাস, সুমন আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম, মো. আরিফ, মিনহাজ উদ্দিন, বদর আলী বিশ্বাস, তুষার শেখ, ইমরান আহমেদ, মুনজুর রহমান, আমির খান, সৌরভ হাসান, একরামুল হক, সিরাজুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন।

সাংবাদিক, মালী, নাপিত পদে পেলেন চাকরি : কাজলা এলাকার শামসুল আলম নামে এক নাপিত অধ্যাপক সোবহানের পরিবারের সবার চুল কাটতেন। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুয়ার্ট শাখায় নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজন নামে এক কাঠমিস্ত্রিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি উপাচার্যের বাড়ির আসবাবপত্র বানাতেন। তাকে প্রকৌশল দপ্তরে কাঠমিস্ত্রি পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও উপাচার্যের বাড়ির মালী সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মিনু খাতুনকে চিকিৎসাকেন্দ্রে আয়া পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া উপাচার্যের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ইত্তেফাকের রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আনিছুজ্জামান আনিছ পেয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ। মোহনা টিভির রাজশাহী প্রতিনিধি মেহেদী হাসান শ্যামল পেয়েছেন সেকশন অফিসার পদ, স্থানীয় উত্তরা প্রতিদিনের বার্তা সম্পাদক এনায়েত করিম ও আমাদের সময়ের রাজশাহী ব্যুরোর আমজাদ হোসেন শিমুল পেয়েছেন সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ।

যোগদান স্থগিত: বিতর্কিতভাবে নিয়োগ পাওয়াদের যোগদান স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এই নিয়োগ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত করছে। তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত যোগদান স্থগিত রাখা হয়েছে।

মন্তব্য করুন