করোনামুক্ত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ২৭ দিন পর তিনি করোনা ‘নেগেটিভ’ হলেন।

শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর মোট তিনবার খালেদা জিয়ার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সর্বশেষ পরীক্ষায় তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। এরপর গত ১৪ এপ্রিল ও ২৫ এপ্রিল দুই দফায় তার নমুনা পরীক্ষা করা হলেও তখন ফল পজিটিভই আসে। অবশেষে শনিবার তার নমুনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে তার পরিবার। এরইমধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও শনিবার রাত পর্যন্ত সরকারের অনুমতি মেলেনি। ​তবে রোববার এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

শনিবার সন্ধ্যায় আইনমন্ত্রী সমকালকে বলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত শিথিলের সুযোগ আছে কি-না তা নিয়ে মতামত প্রদান শেষে রোববার এ সংক্রান্ত নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, ‘শনিবার ছুটির দিনে কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় নথি পাঠানো সম্ভব হয়নি। তাই আইনি মতামতসহ রোববার সকালে কাগজপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ কী মতামত দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘কী মতামত দিয়েছি সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই জানাবে।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকরা। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক শনিবার জানান, তাকে শনিবারও অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। তবে আগের ৩ থেকে ৪ লিটারের পরিবর্তে ১ থেকে ২ লিটার অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। তিনি সামান্য খাবার খেতে পারছেন। স্যালাইন চলছে। তার ফুসফুসের ওপরের স্ক্রিনের ভেতর পানি জমছে। যেটা আশঙ্কাজনক মনে হলেও পরীক্ষায় তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। সাধারণত হৃদযন্ত্রের কোনো ত্রুটির কারণে এই পানি জমে। তবে তার হৃদযন্ত্র অনেকটাই ভালো বলে জানান ওই চিকিৎসক।

মন্তব্য করুন