হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা পৃথক তিন মামলায় ২৪ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি আগামী বুধবার (১২ মে) অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার দুপুরে পূর্ব নির্ধারিত শুনানির ধার্য দিনে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবিরের আদালত রিমান্ড শুনানির পরবর্তী দিন ১২ মে ধার্য করেন।

এর আগে গত ২ মে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবিরের আদালতে পুলিশ ও ডিবির পক্ষ থেকে সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার মামলায় ১০ দিন, রয়েল রিসোর্ট কাণ্ডের মামলায় ৭ দিন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুরের মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরে আদালত ৯ মে রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, আগামী ১২ মে রিমান্ড শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম জানান, পুলিশের তদন্তে থাকা জান্নাত আরা ঝর্ণার মামলায় ১০ দিন, ডিবির তদন্তে থাকা রিসোর্টকাণ্ডের মামলা ও আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা মামলায় পৃথকভাবে ৭ দিন করে ১৪ দিন মোট ২৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে মামুনুল হককে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

গত ৩০ এপ্রিল প্রলোভন, প্রতারণা, নির্যাতনের অভিযোগ এনে হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা।

মোদিবিরোধী আন্দোলনের নামে রাজধানী ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হাটহাজারীতে বেপরোয়া তাণ্ডবের পর রিসোর্টকাণ্ডে মামুনুল হককে নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাণ্ডবের অভিযোগে একে একে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মাওলানা মামুনুল হককে গত ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে ২০২০ সালে দায়ের হওয়া মোহাম্মদপুর থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ে। পরে পল্টন ও মতিঝিল থানার পৃথক দু'টি মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।